স্বচ্ছতা দৃশ্যমান করতে প্রশাসনকে নির্দেশ সিইসির

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৩, ০২:২৬ এএম

পুরো দেশ এখন নির্বাচন নিয়ে ‘মাতোয়ারা’ বলে মন্তব্য করে, এখন থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছতার সঙ্গে দৃশ্যমান করতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন নিয়ে পুরো দেশ মাতোয়ারা হয়ে আছে। পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিদিন বক্তব্য হচ্ছে। একটা ডাইমেনশনও পেয়ে গেছে। ভোট পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন দেশও আসছে। পুরো জাতি তাকিয়ে আছে। নির্বাচন কমিশনের একটা কাজ হচ্ছে নির্বাচন প্রক্রিয়াটাকে যতদূর সম্ভব দৃশ্যমান করে তোলা, স্বচ্ছতা সৃষ্টি করা। স্বচ্ছতা সৃষ্টি করলে সম্ভাব্য অপপ্রচার ঢাকা পড়ে যাবে। স্বচ্ছতা মানে সত্যের স্বচ্ছতা, মিথ্যের স্বচ্ছতা। যদি অনাচার হয় তুলে ধরতে হবে।’

গতকাল শুক্রবার নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) আয়োজিত মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে সিইসি এমন নির্দেশনা দেন। নির্বাচনী আইন, বিধিমালা, নির্বাচন পরিচালনাবিধি, আচরণবিধিসহ সার্বিক বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব, কর্তব্য ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় করণীয় বিষয় তুলে ধরতে এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা কমিশন থেকে দেখতে চাইজ্বা এমনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন আপনাদের প্রজ্ঞা দিয়ে, যাতে সত্যিকার অর্থে নির্বাচনটা অবাধ-নিরপেক্ষ হয়। আমাদের মেসেজটা হচ্ছে নির্বাচনটা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল করতে হবে। সুশৃঙ্খল আমি করাতে পারব না, আপনাদের করাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভোটের মূল কাজ ডিসি ও পুলিশ সুপারদের করতে হবে। সমন্বয় করে নির্বাচনটা তুলে আনতে হবে। ক্ষমতা, শক্তি নয়, দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজটা করতে হবে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি ক্ষমতা প্রয়োগের প্রয়োজন হয় তাহলে তা করতে হবে। আমাদের মূল কাজ হচ্ছে জনগণের ভোটাধিকারের স্বাধীনতা যেন ব্যাহত না হয়। সবাই যেন ভোট দিতে পারে। ভোটের দিনের পরিবেশ পুরো জাতি দেখবে, গণমাধ্যম তুলে ধরবে। ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে আছে, ভোটকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসছে। কিন্তু ভোটকক্ষের ভেতরে যদি কেউ সিল মারতে থাকে তাহলে আমাদের নিরপেক্ষতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যেতে পারে, কেন এটা হলো।’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল এক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করা হতে পারে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহেই হয়তো তফসিল ঘোষণা হয়ে যাবে, সেজন্য আপনাদের আহ্বান জানাই, সবাই একটু মনোযোগ দিয়ে শুনি।’

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান বলেন, ‘এখন কিন্তু আগের দিনের মতো নেই। প্রতিটি সময়, প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি সেকেন্ড আমাদের নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। এখন দৃশ্যমান সবকিছু। সব সময় বলি, মিডিয়ার ভাইয়েরা আমার চোখের কাজ করে। যাদের হাতে মোবাইল আছে, তারাও কিন্তু এ ধরনের অ্যাকটিভিটিস (তৎপরতা) করছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রায়ই একটা প্রশ্ন আসেজ্বা অতীত, অতীত, অতীত। আমি কিন্তু অতীতকে বিশ্বাস করি না। কারণ, অতীতকে আমরা পরিবর্তন করতে পারব না। অতীত থেকে আমরা শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে একটি সুন্দর, অবাধ, সুষ্ঠু, উৎসবমুখর; এমন একটা নির্বাচন উপহার দেব, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।’

নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘যখনই আমরা নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলি, তখনই একটা প্রশ্নের জন্ম হয়। জনগণের মধ্য থেকে শুরু করে প্রার্থী যারা থাকেন, প্রত্যেকের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এই ক্ষোভের যেন সৃষ্টি না হয়, সেটা যেন কোথাও আমরা না দেখি। আপনারা আন্তরিকতার সঙ্গে সবাইকে সমান চোখে দেখে কাজটা করবেন।’

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, ‘আপনারা সবই জানেন, নির্বাচন কীভাবে করতে হয়। আমরাও জানি কীভাবে নির্বাচন করাতে হয়। এর মধ্যে যদি কোনো পার্থক্য থাকে বা একটু গ্যাপ (ঘাটতি) থাকে, সে বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।’

এ সময় ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম, ইটিআইয়ের মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত