পাবনায় সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা-হত্যার হুমকি, অস্ত্রসহ আটক ৪

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:৪৬ এএম

পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক, মাছরাঙা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ও উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরো প্রধান উৎপল মির্জার বাড়িতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা করে ভাঙচুর করেছে।

রবিবার (১২নভেম্বর) দুপুরে পৌর সদরের দিলালপুর মহল্লায় সাংবাদিক উৎপল মির্জার বাড়ির গেটের তালা ভেঙে সন্ত্রাসীরা ভেতরে প্রবেশ করে, রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে হত্যার হুমকি দেয়, এবং বাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে বলে।

তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলায় জড়িত এক নারীসহ চারজনকে অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। এ সময় বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় রবিবার রাতে সাংবাদিক উৎপল মির্জা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

আটককৃতরা হলেন, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আলোকদিয়ার গ্রামের শরিফুল ইসলামের স্ত্রী মুসলিমা খাতুন (৩৫), পাবনা পৌর সদরের আরিফপুর মহল্লার আব্দুর রহমান মোল্লার ছেলে মোবারক মোল্লা (২০), দিলালপুর মহল্লার জহুরুল ইসলাম (৩৫) ও তানভীর ইসলাম (৩০)।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, রবিবার দুপুরে বেশকিছু সন্ত্রাসী একটি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলযোগে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক উৎপল মির্জার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সাংবাদিকের নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বেরিয়ে আসতে বলে এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

ঘটনার সময় সাংবাদিক উৎপল মির্জা বাড়িতে ছিলেন না। হামলার ঘটনায় ভীত সন্ত্রস্ত সাংবাদিক উৎপল মির্জার স্ত্রী ফোনে তাকে ঘটনা জানান। তিনি তাৎক্ষণিক পুলিশ সুপারকে জানালে সদর থানার ওসির নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠান।

সদর থানার ওসি রওশন আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে এক নারীসহ চারজন আটক করে।  অন্যরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করে পুলিশ।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ‘হামলার ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক হাতে নাতে চারজনকে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ আটক করেছে। তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর পেছনে কারা ছিল, কি কারণে এই হামলার ঘটনা সব খতিয়ে দেখছি। প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’

ভুক্তভোগী সাংবাদিক উৎপল মির্জা বলেন, ‘দুপুরে আমি মাছারাঙা টেলিভিশনের পাবনা অফিসে কর্মরত ছিলাম। এ সময় আমার স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে হামলার ঘটনাটি জানায়। আমি দ্রুত পুলিশ সুপারকে জানালে তিনি সদর থানার ওসিকে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পাঠান। পরে হামলাকারী বেশিরভাগ পালিয়ে গেলেও চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।’

উৎপল মির্জা আরও বলেন, ‘হামলাকারীরা বহিরাগত, তাদের আগে কখনও এলাকায় দেখা যায়নি। তাদের ভাড়া করে নিয়ে আসা হয়েছে বলে মনে হয়। কেন, কি কারণে এই হামলা তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি তিনি। তবে ইছামতি নদীর অবৈধ দখল ও দখলদারদের সরকারি অর্থের অপচয় করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট করার কারণে সংক্ষুব্ধ কেউ হামলার সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন সাংবাদিক উৎপল মির্জা।’

এ দিকে সাংবাদিক উৎপল মির্জার বাড়িতে সশস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন পাবনায় কর্মরত সাংবাদিকরা।

পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিক উৎপল মির্জার বাড়িতে প্রকাশ্যে সশস্ত্র হামলার ঘটনাটি ন্যক্কারজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা এই হামলার পেছনে জড়িত তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। পাশাপাশি পরিবারটির নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানাচ্ছি।’

পাবনা সদর থানার ওসি রওশন আলী বলেন, ‘সাংবাদিক উৎপল মির্জা বাদি হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে রবিবার সন্ধ্যায় মামলা করেছেন। আসামিরা খুবই উগ্র প্রকৃতির। তারা পুলিশের সাথেও খারাপ আচরণ করেছে। আমরা হামলার কারণ জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। উৎপল মির্জার নিরাপত্তায় পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত