ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরের এক ইউপি সদস্য (মেম্বার) দীর্ঘদিন প্রবাসে বাস করায় পরিবারের লোকজন তার স্বাক্ষর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে উপজেলার সাতমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড জগন্নাথপুর গ্রাম থেকে নির্বাচিত ঐ সদস্যের নাম আক্কাস মিয়া। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই ইমারত নির্মাণের ঠিকাদারি ভিসায় সৌদি আরব চলে যান। পরিষদের জরুরি প্রয়োজনে ৩-৪ মাস পরপর কয়েকদিনের জন্য দেশে আসেন তিনি। তবে এতে করে জন্মনিবন্ধন, ভিজিডি, ভিজিএফ, ওয়ারিশ সনদ থেকে শুরু করে পরিষদের সব ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তার ওয়ার্ডবাসী।
এসব জটিলতার জন্য স্বাক্ষর নিতে গিয়ে তাকে না পেয়ে অনেকে তার পরিবারের লোকজন থেকে শুধু সিল মেরে নিজেরাই তার স্বাক্ষর করে নিচ্ছেন। এছাড়া বেশিরভাগ সময়ই তার স্বাক্ষর দিয়ে থাকেন আক্কাসের স্ত্রী, ছেলে কিংবা ছেলের বউ। এমনকি সরকারি ত্রাণসামগ্রী মেম্বার আক্কাসের অনুপস্থিতিতে তার পরিবার মনগড়া মতো নিজেদের লোকজনের মধ্যে বিতরণ করছে বলেও অভিযোগও উঠেছে। এসব ব্যাপার নিয়ে ওয়ার্ডবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর গ্রামের সেন্টু মিয়া, মিজান মিয়া, আলমাসের বউ, বাছির ইসলামসহ অনেকে জানান, মেম্বার (ওয়ার্ড সদস্য) আক্কাস মিয়া বিদেশে পাঠানোর কথা বলে অনেকের টাকা মেরে নিজেই প্রবাসে চলে গেছে। এতে পরিষদের সব ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়াসহ স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছেলে-মেয়েদের জন্মনিবন্ধন সনদ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে তার স্বাক্ষর নিতে মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে। তার কাছের লোকদের কাজগুলো তার স্ত্রী, ছেলে, ছেলের বউ স্বাক্ষর দিয়ে সেরে দিলেও দূরের মানুষজন পড়েছে বিপাকে।
এ বিষয়ে জানতে ওই ওয়ার্ডে গেলে ইউপি সদস্য আক্কাস মিয়ার ছেলে রায়হান জানান, ঘরে সিল রয়েছে, তার বাবার পরিষদের সব কাজ তারাই করেন। জরুরি হলে অনেকগুলো নিবন্ধনের কাজ জমা করে রাখেন, পরে তার বাবা প্রবাস থেকে এলে তা করে দেন। তার বাবা বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা মেরে দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন মেম্বারের ছেলে রায়হান।
সাতমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকে সদস্য আক্কাসের ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি বলেন, মেম্বার আক্কাস আমার কাছ থেকে তিন মাসের ছুটি নিয়ে গেছেন। তিনি এরকম প্রায়ই ছুটি নেন। তবে শেষবার তাকে বলে দিয়েছি আবার লম্বা ছুটি নিতে হলে ডিসি সাহেবের কাছ থেকে নিতে হবে।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর ফরহাদ শামীম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
