পরিবারের ৬৮ সদস্যকে হারিয়েছে মেলিসা

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৫৫ এএম

ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর দ্বিতীয় সপ্তাহে কোনো একরাতে ভোরের দিকে ইয়াসমিন জুদাহ দেখেন, তার বাবা-মা যে ভবনে থাকতেন, সেটি গোলার আঘাতে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হয় একের পর এক মৃতদেহ। এর মধ্যেই তিনি দেখতে পান, তার বোনের ১৬ মাস বয়সী সন্তান মেলিসা জুদাহকেও ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা হচ্ছে। তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো শিশুটি মারা গেছে। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে বেঁচে ফেরা শিশুটির পা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছে। 

গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার ছোট্ট চিকিৎসাকেন্দ্র আল-আকসা মার্টায়ার্স হাসপাতালের ভেতর থেকে ইয়াসমিন জুদাহ বলছিলেন, ‘সবাই চলে গেছে। আমার সব ভাইবোন মারা গেছেন। আমার মা, আমার দুই খালা এবং তাদের দুই কন্যা ও তাদের সন্তানরা কেউই নেই।’ তিনি জানান, মেলিসা জুদাহর পরিবারের মোট ৬৮ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন ইসরায়েলি হামলায়।

মেলিসা কয়েক সপ্তাহ আগে প্রথম পা ফেলতে শিখেছিল। এখন তার পরিবারের কেউই নেই। সে-ও এখন পক্ষাঘাতগ্রস্ত। আল-আকসা মার্টায়ার্স হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান ডা. আয়মান হার্ব বলেন, মেলিসাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া উচিত। সংক্রমণ ও নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে পারে সে, যা পরে তার বিভিন্ন অঙ্গহানির কারণ হতে পারে। সে এখন শারীরিক দিক থেকে স্থিতিশীল হলেও তার বুক থেকে নিচের ভাগ অবশ হয়েছে। শিশুটিকে পরবর্তী জীবন কাটাতে হবে হুইলচেয়ারে।

আল-আকসা মার্টায়ার্স হাসপাতালটি এখন চলছে সৌরশক্তিচালিত জেনারেটর দিয়ে। হাসপাতালের ভেতরে ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সরবরাহ এবং চিকিৎসাকর্মীদের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। আবার এখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ব্যাপক রোগীর চাপ। ডা. হার্ব বলেন, ‘রোগীদের জীবন ধ্বংস হতে দেখে, আমরা কান্নারও সময় পাচ্ছি না।’

মেলিসার বাবা, দাদা-দাদি, চাচাসহ কেউই বেঁচে নেই। মেলিসার মায়ের মৃত্যু ছিল আরও করুণ। তার মা ছিলেন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ইসরায়েলি আক্রমণের সময় তিনি সন্তান প্রসব করেছিলেন। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে মৃত যমজ সন্তানসহ তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ইসরায়েলি আগ্রাসনে ১১ হাজারের বেশি নিহত মানুষের মধ্যে ৮ হাজারই নারী ও শিশু। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬০৭ জনের মতো রয়েছে শিশু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত