সিরাজগঞ্জে ১০ হাজার থ্রি হুইলারের নিবন্ধন নেই

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৩, ১১:১২ এএম

সিরাজগঞ্জের অভ্যন্তরীণ সব সড়ক এবং বগুড়া-নগরবাড়ী ও ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বাসের মতো রুট করে প্রায় ১৫ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা থ্রি হুইলার চলাচল করছে। এর মধ্যে মাত্র চার হাজার অটোরিকশা গত দেড় দশকে নিবন্ধন করেছে। বাকি প্রায় ১১ হাজার অনিবন্ধিত। অধিকাংশ নতুন অটোরিকশার নিবন্ধন নেই।

ফলে এগুলো চলছে অবৈধভাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এতে সরকার অন্তত ২০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পুরনোগুলোর অধিকাংশই ফিটনেস ছাড়া চলাচল করছে। অনিবন্ধিত ও ফিটনেসবিহীন অবৈধ এ যানবাহন সড়কে দাপিয়ে বেড়ালেও এদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান নেই। আবার তিন চাকার এ ক্ষুদ্র যানের নির্ধারিত কোনো স্ট্যান্ডও নেই।

সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের বাজার স্টেশন, রেল গেট, কাঠেরপুল, সয়দাবাদ, কড্ডার মোড়সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কের পাশে অর্ধশত অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এসব স্ট্যান্ড থেকে ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন চলাচল করছে হাজারো অটোরিকশা। হরতাল-অবরোধে বাস চলাচল সীমিত হওয়ার সুযোগে এসব যানবাহন চলছে দাপটের সঙ্গে। নিবন্ধিত চার হাজার অটোরিকশার মধ্যে দুই হাজারটির নম্বর প্লেট বিআরটিএ অফিসে পড়ে আছে। এগুলো মালিক-চালকরা এখনো নেয়নি। বাকি যানবাহনগুলো নিবন্ধিত হলে সরকারের কোষাগারে প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব জমা হতো।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার অটোরিকশাচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কে চায় নিবন্ধন ছাড়া গাড়ি চালাতে বা হয়রানির শিকার হতে?’ তিনি বলেন, ‘মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে নিবন্ধন আপাতত বন্ধ আছে। এজন্য আর বিআরটিএ অফিসে যোগাযোগ করা হয়নি।’

জানা যায়, ২০২২ সালের ২৯ জুন সিরাজগঞ্জ জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির (আরটিসি) সভায় সর্বশেষ ৫০০ সিএনজিচালিত থ্রি হুইলারের নিবন্ধনের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর আবেদন দূরের কথা, বিআরটিএ অফিসমুখী হয়নি চালক ও মালিকরা।

আরটিসির সদস্য সচিব ও বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আলতাব হোসেনের দাবি নিবন্ধন বন্ধ রয়েছে বলে অপপ্রচার চালিয়ে চালকদের অফিসমুখী হতে দেওয়া হচ্ছে না। লাইসেন্সসহ ১০ হাজার অটোরিকশা নিবন্ধিত হলে সরকারি কোষাগারে ২০ কোটি টাকা জমা হতো। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অটোটেম্পো ও হিউম্যান হলারের মালিক গ্রুপ এবং মালিক সমিতি যানবাহনগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। বাকিগুলো নিয়ন্ত্রিত হয় স্থানীয়ভাবে। মালিক গ্রুপ বা সমিতিতে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে ভর্তি হয়ে চলাচল করায় নিবন্ধনে আগ্রহ থাকছে না চালক ও মালিকদের।

অটোরিকশা, অটোটেম্পো ও হিউম্যান হলার মালিক গ্রুপের সভাপতি হাসানুল হক ফাহিম মোল্লা জানান, তারা শুনেছেন নিবন্ধন বন্ধ আছে। চালু হয়েছে কি না তা তার জানা নেই।

সিরাজগঞ্জ অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হামিদ একই দাবি করেছেন। তবে সিরাজগঞ্জ অটোরিকশা ও অটোটেম্পো মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, তিন-চার বছর নিবন্ধন বন্ধ থাকলেও ফের চালু হয়েছে। বিআরটিএ অতিরিক্ত ফি দাবি করায় কেউ আর নিবন্ধন করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

সিরাজগঞ্জ জেলা ট্রাফিকের পরিদর্শক (অ্যাডমিন ও প্রসিকিউশন) আবু জাফর দাবি করেন, নিবন্ধনের জন্য চালক-মালিকদের বিআরটিএমুখী করতে অভিযান চলছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও আরটিসির সভাপতি মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, পরিবহন খাতের কমিটির লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করে নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়। এ বিষয়টি নিয়ে কী করা যায় তা তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত