কাঠের নৌকায় চেপে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের উপকূলে পৌঁছানো ২৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়নি স্থানীয়রা। রোহিঙ্গাদের জোর করে সেই কাঠের নৌকাতেই সাগরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা এপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) দেশটির আচেহ প্রদেশের উপকূলে পৌঁছালে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা তাদের নৌকাটি অবতরণ করতে বাঁধা দিলেও শরণার্থীরা সাঁতরে তীরে উঠে আসে এবং সৈকতে উঠার পর অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ সময় অনেকেই অনুনয়-বিনয় করলেও শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) ভোরে স্থানীয়রা তাদের পুনরায় নৌকায় করে সাগরে পাঠিয়ে দেয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, কাঠের নৌকাটি প্রায় তিন সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন।
এপিকে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘মানবিকতার দিক থেকে আমরা তাদের নিয়ে যেমন শঙ্কিত তেমনি আরেক দিকেও শঙ্কা আছে। তারা এখানে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি করছে। অতীতে আমরা দেখেছি তারা ডাঙায় পৌঁছায়, আশ্রয়কেন্দ্র থেকে তাদের অনেকে পালিয়ে যায়। তাই স্থানীয়রা তাদের আর গ্রহণ করতে চায় না।’
রোহিঙ্গা অধিকার সংস্থা আরাকান প্রজেক্টের পরিচালক ক্রিস লেওয়া বলেন, 'রোহিঙ্গা পাচারকারীরা ইন্দোনেশিয়াকে মালয়েশিয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে সুবিধা নিচ্ছে।’
ইউএনএইচসিআরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দুই হাজারের বেশি রোহিঙ্গা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। সংস্থাটির অনুমান, বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার চেষ্টা করার সময় গত বছর প্রায় ২০০ রোহিঙ্গা মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।
