মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেই ম্যাচের আগের রাতে উইকেট বদলের অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় কিউরেটরের বিপক্ষে। সেই ম্যাচের পর অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছিলেন আইসিসির ওপর ভরসা আছে তাদের। তবে আজ কামিন্সকে দেখে মনে হয়েছে ভরসায় ফাটল ধরেছে। উইকেটের ছবি তুলে নিয়ে গেছেন তিনি।
ম্যাচের আগের দিন অধিনায়কদের উইকেট পরখ করে দেখা নতুন কিছু নয়। তবে উইকেটের ছবি নিয়ে ড্রেসিং রুমে আলোচনা হবে, চুলছেড়া বিশ্লেষণ করবে দল এটা অপ্রচলিত। উইকেট দেখতে এসে কামিন্সের ছবি তোলাটা তাই রহস্য জাগিয়ে তুলেছে। ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করতে থাকে।
এ ঘটনার জের ধরেই ফাইনালের আগে ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন—কোন পিচ আর কেমন পিচে হবে খেলা। একই সঙ্গে প্রশ্ন আছে, আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ফাইনালের পিচ কারা তৈরি করছেন, আর সেটা কীভাবেই বা তৈরি করছেন।
ফাইনালের পিচ নিয়ে খবর দিতে গিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে উদ্ধৃত করেছে এভাবে, ‘শুক্রবার বিসিসিআইয়ের প্রধান মাঠকর্মী আশিস ভৌমিক আর তাঁর সহকারী তাপস চ্যাটার্জি ভারতের সাবেক পেসার ও বিসিসিআইয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটের মহাব্যবস্থাপক আবে কুরুভিল্লাকে নিয়ে পিচ তৈরির বিষয়টি দেখতে গিয়েছিলেন।’
ফাইনালের পিচ কেমন হবে, এটা বোলার না ব্যাটসম্যানদের সাহায্য করবে—প্রতিবেদনটিতে সেটারও একটা ধারণা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত পিচ তৈরির যে প্রক্রিয়া লক্ষ করা গেছে, তা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে ফাইনালের উইকেট একটু মন্থরই হবে। কারণ, খুব ভারী রোলার দিয়ে পিচ রোল করতে দেখা গেছে।
এনডিটিভি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে উদ্ধৃত করে জানায়, ফাইনালের উইকেট একটু মন্থর হবে। বিশ্বকাপের চলমান আসরে ভারত ও পাকিস্তান ম্যাচের উইকেটেই হবে ফাইনাল। তাদের প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘কালো মাটির ওপরে যদি খুব ভারী রোলার ব্যবহার করা হয়, তাহলে তো বুঝতেই হবে যে একটি মন্থর ব্যাটিং উইকেট তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে আপনি বড় স্কোর পাবেন ঠিক, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে বাউন্ডারি মারতে পারবেন না। ৩১৫ রানও এখানে যথেষ্ট হতে পারে। তবে পরে ব্যাটিং করাটা কঠিন হবে।’
তবে মন্থর উইকেটে নিজেদের ব্যাটিং কৌশল আর টস সিদ্ধান্ত কি হবে, তা নিয়ে ফন্দি আঁটতেই ছবি তুলেছেন কামিন্স! সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে এলে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে এনডিটিভির সুর তার কণ্ঠেও ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, ‘আমি একবার দেখেছি উইকেট। যদিও আমার উইকেট বোঝার ক্ষমতা খুব সীমিত। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে উইকেটে পানি দেওয়া হয়েছে। এখনও ২৪ ঘণ্টা বাকি, তারপর আসলে বোঝা যাবে কেমন উইকেট হয়েছে।’
