শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ক্যান্টিন ম্যানেজার জাহিদকে গলায় রামদা ঠেকিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে হলটির ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম সজীব হোসাইন ও সাধারণ স¤পাদক আরিফুর রহমান আরিফের বিরুদ্ধে। টাকা না দিলে গুম-খুনের হুমকি দিয়েছেন তারা। গত ১৬ নভেম্বর রাতে হল সেক্রেটারির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। রামদা হাতে চাঁদা দাবির ঘটনায় সেদিন দুজনই ওই রুমে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগেও গত বছরের ২৭ জুলাই ‘ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি হলের ডাইনিংও’ শিরোনামে দেশ রূপান্তরে নিউজ প্রকাশ হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে হল সভাপতি ও সাধারণ স¤পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় ওই দুই নেতাকে। পরে এ বছর ৩১ জুলাই তাদের পুনরায় স্বপদে বহাল করা হয়। কাউন্সিল হলেও বর্তমানে শেকৃবি শাখা ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ক্যান্টিন ম্যানেজার জাহিদ জানান, ‘গত ১৬ নভেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় তাকে ২২০ নম্বর রুমে (সাধারণ স¤পাদক আরিফের রুম) ডাকেন। কিছুক্ষণ পর সভাপতি সজীবও রুমে প্রবেশ করেন। এরপর ক্যান্টিনের বাকির খাতা দেখতে দেখতে ২ লাখ টাকা দাবি করে বসেন তারা। এক দিনের ব্যবধানে এ টাকা পরিশোধের জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন এই দুই নেতা। আমার কাছ থেকে সদুত্তর না পেয়ে ২১৯ নম্বর রুম থেকে দেড় হাত লম্বা রামদা নিয়ে আসেন সভাপতি সজীব। গলায় ওই অস্ত্র ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে ২০ নভেম্বরের মধ্যে চাঁদা পরিশোধ করতে বলেন এবং জোর করে আমার থেকে ২ লাখ টাকা পান এমন স্বীকারোক্তি মোবাইলে ভিডিও করেন।’
ভুক্তভোগী জাহিদ বলেন, ‘প্রতিদিনই সকাল-বিকেল ক্যান্টিন থেকে ফাও খাবার খান নেতা সজীব। কিছুদিন পরপরই তার নানান আত্মীয়-স্বজন এসে ফ্রি খাবার খেয়ে যান। হলে থাকা ডাইনিং এবং চা দোকানেও ১০-১৫ হাজার টাকা করে চাঁদা নিতেন সজীব ও আরিফ। আমি এখন নিজ ও পরিবারের জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি।’
চাঁদার বিষয় ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, উপ-উপাচার্য ও প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ক্যান্টিন ম্যানেজার জাহিদ।
এ বিষয়ে অস্বীকার করে অভিযুক্ত সেক্রেটারি আরিফুর রহমান বলেন, ‘তার সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করা হয়নি। তার ওপর আবার চাঁদাবাজি কিংবা অস্ত্র ধরে ভয়ভীতি দেখানোর প্রশ্নই উঠে না। হলের খাবারের মান খারাপ হচ্ছে, এজন্য প্রভোস্ট স্যার আমাদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তাকে বলার জন্য। তার সঙ্গে আমার রুমের বাইরে ১৬ তারিখ রাতে এ ব্যাপারে মাত্র ২ মিনিট কথা হয়। এর বাইরে কিছু না।’
এ ব্যাপারে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। আমরা অ্যাকশন নেওয়ার চেষ্টা করছি।’ তার নিরাপত্তার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় নেবে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো এমপ্লয়ি না। আর এ ব্যাপারে আমি কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ বলেন, ‘অভিযোগপত্র পেয়েছি। প্রভোস্ট বিষয়টি আগে দেখবে। তারপর তিনি ফরওয়ার্ড করে দিলে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব।’
