১২ বার আটকালেও ১৩ বারে পাত্তা দেয়নি কেউ, ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যু

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:৩৮ পিএম

বাঘ বাঘ বলে চিৎকার করা সেই রাখালের গল্প মনে আছে? প্রতিদিন বাঘের কথা বলে মজা নেওয়ার সেই পুরনো কাহিনি। তারপর যেদিন সত্যিই বাঘ আসলো সেদিন আর কেউ এল না। সবাই ভাবল এদিনও বোধহয় রাখাল মজা করছে। এই গল্পেরই মতোই এক ঘটনা ঘটেছে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বুনিয়াদপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বড়াইল বুড়িতলায়। 

ভারতীয় স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, মনের মতো কিছু না হলেই আত্মহত্যার হুমকি দিতেন এক তরুণ। হাতে দড়ি কিংবা অন্য কিছু নিয়ে দৌড়তেন গলায় ফাঁস দিতে। প্রতিবারই কেউ না কেউ তাকে আটকাতেন। অভিনয়ের পর তার মন বুঝে চলতেন বাড়ির সবাই। তবে ১৩ বারের সময় আর কেউ বিষয়টিকে পাত্তা দেননি। এমনকি তার স্ত্রীও কোনো গুরুত্ব দেননি। একসময় ঘরের ছাদের হুক থেকে ঝুলে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি নজরে আসে তার স্ত্রীর। বাড়ির লোকজন তড়িঘড়ি তাকে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মৃত তরুণ কার্তিক পাহান বুনিয়াদপুর এফসিআই গোডাউনে শ্রমিকের কাজ করতেন। বাবা অর্জুন পাহানও পেশায় শ্রমিক। প্রেম করে বছর দু'য়েক আগে বোল্লার সুস্মিতা পাহানকে বিয়ে করেন। মাত্র ২৩ দিন আগে তাদের একটি ছেলে হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, ছোট থেকেই খুব জেদি ছিলেন কার্তিক। বিয়ের পর থেকে তার আত্মহত্যার অভিনয় করার রোগ মাথায় চেপেছিল। মনের মতো কিছু না হলেই হাতে দড়ি বা অন্য কিছু নিয়ে আত্মহত্যা করতে দৌড়তেন। অন্তত ১২ বার এমনই ঘটনা ঘটিয়েছেন। 

কার্তিকের ভাই সিদ্ধার্থ পাহান বলছেন, ‘এর আগে অন্তত ১২ বার ভাই আত্মহত্যা করার নাটক করেছে। আমরা ওকে অনেক বুঝিয়েছি। সোমবার বিকেল ৪টার দিকেও ফের একই কাজ করে। কিন্তু কেউ কিছু ভাবেনি। শেষ পর্যন্ত সেই অভিনয়ই কাল হল ওর।’ 

দেশটির স্থানীয় বংশীহারী থানার আইসি মনোজিৎ সরকার জানিয়েছেন, ‘এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ হলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তার রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।’ সূত্র: ইটিভি ভারত

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত