‘দুই বেলা খাবার জোটানোই কষ্ট, শীতের কাপড় কিনবো কেমনে’

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৩১ পিএম

সামর্থবানদের জন্য শীত পিঠা-পূলি উৎসবের উপলক্ষ্য হয়ে আসলেও গরীবের জন্য আসে বাড়তি কষ্ট হয়ে। হাড় কাঁপানো শীত থেকে বেঁচে একটু উষ্ণতার ছৌঁয়া পেতে প্রাণান্তকর চেষ্টা তাদের। রাস্তার পাশের ফুটপাতের দোকানই ভরসা এসব খেটে খাওয়া মানুষের। অল্প টাকায় পছন্দের কাপড় কিনতে পেরে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বেঁচা-কেনা। শীত বাড়লে বিক্রি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা বিক্রেতাদের।

উত্তরের বয়ে চলা বাতাস জানান দিচ্ছে, শীতের আগমনী বার্তা। সন্ধ্যার পর থেকেই অনুভূতি হতে থাকে শীত। আর এই শীতের হাত থেকে রক্ষা পেতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা ভিড় করছে সড়কের পাশে ভ্রাম্যমাণ ফুটপাতের দোকানে। শীতের আগমনীতে চাঁদপুরে জমে উঠেছে ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকান। শিশু থেকে বয়স্ক সকল বয়সী মানুষের কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছে এসব ব্যবসায়ীরা। শহরের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক হকার শীতকে কেন্দ্র করে গরমের কাপড় বিক্রি করে। এতে প্রাতিদিন প্রায় ৪-৫ লাখ টাকার বাণিজ্য হয়।

সদর উপজেলার হরিণা ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মমিন। সত্তরোর্ধ এই বৃদ্ধ জীবিকা নির্বাহ করেন চাঁদপুর শহরের পথে প্রান্তরে রিকশা চালিয়ে। শীতের হাত থেকে আদরের নাতি-নাতনীদের রক্ষা করতে গরমের পোশাক কিনতে হাসান আলী স্কুল মাঠের ভ্রাম্যামাণ দোকানে এসেছেন তিনি।

রিকশা চালক আব্দুল মমিন বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে শীত লাগতে শুরু করে। বিশেষ করে ভোরে অনেক বেশি শীত লাগে। বড়রা কষ্টে দিন কাটাতে পারলেও শিশুদের জন্য অনেক সমস্যা হয়ে যায়। তাই নাতি-নাতনীদের জন্য গরমের কাপড় কিনতে এসেছি। ফুটপাত থেকে অল্প টাকায় জামা-কাপড় কেনা যাওয়ায় গরিবদের জন্য সুবিধা হয়েছে।

শুধু আব্দুল মমিনই নয়, তারমতো এমন হাজারো মানুষ গরমের কাপড় কিনতে ভিড় করছেন রাস্তার পাশের ফুটপাতের দোকানে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের আনাগোনায় মুখর থাকে এসব দোকান। অভিজাত বিপণীবিতান কিংবা মার্কেটের তুলনায় এসব দোকানে সস্তায় কেনাকাটার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা।

শহরের বড়স্টেশন এলাকার তাছলিমা বেগম বলেন, সবকিছুর দাম বেশি। তেল কিনলে, নুন কিনা যায় না। শীতে জামা কাপড়ের দামও বেড়েছে। আমরা ফুটপাত থেকে কিনি সেখানেও গত বছরের তুলনায় ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে জিনিসপত্রের দাম। তারপরেও ফুটপাতাতে কিনতে পেরে আমাদের কিছুটা রক্ষা হচ্ছে। বড় বড় মার্কেটে তো দাম আরও অনেক বেশি।

ফুটপাতে গরমের কাপড় বিক্রেতা রহমত মিয়া বলেন, প্রতিদিন শহরের হাসান আলী স্কুল মাঠ, সিএনজি স্ট্যান্ড মাঠ, ১০ নম্বরঘাট ওয়াশিংটন মার্কেট, ওয়্যারলেস মোড়সহ বেশ কয়েকটি স্থানে প্রায় ১শ’ ভ্রাম্যমাণ দোকান বসে। এসব দোকানে গড়ে ৪-৫হাজার টাকার গরমের জামা-কাপড় বিক্রি হয়। মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত সকল ধরনের ক্রেতাই এসব দোকানে আসেন কেনাকাটা করতে। দুপুর ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে বেঁচাকেনা। সামনে শীত বৃদ্ধি পেলে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা ব্যবসায়ীদের।

শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীর তীরে নৌকায় বসবাস করেন শতাধিক বেঁদে পরিবার। নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করা এসব মানুষের দু’ মুঠো দু’ বেলা খাবার যোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয়। তাছাড়া জেলার পদ্মা-মেঘনা নদীর বিভিন্ন চরে বসবাসকারী লক্ষাধিক প্রান্তিক মানুষও শীতে অনেক কষ্ট পায়। শীতের শুরুতে এসব মানুষকে সরকারি কিংবা বেসরকারীভাবে সহায়তা করা গেলে কিছুটা হলেও কষ্ট লাগব হবে তাদের।

বেঁদে পল্লীর বাসিন্দা জ্যোছনা বানু বলেন, আমরা গরিব মানুষ। শীতে অনেক কষ্ট হয় আমাদের। দুই বেলা খাবার জোটানোই অনেক কষ্ট, শীতের কাপড় কিনবো কেমনে। যাদের টাকা পয়সা আছে, তারা যদি আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে, তাহলে কিছুটা হলেও উপকার হবে আমাদের। এই শীতে আমাদের প্রত্যেকের গরম কাপড় প্রয়োজন। শীতের শুরুতে পেলে আমরা তা ব্যবহার করতে পারবো।

সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁদপুর জেলার সভাপতি মোশারেফ হোসেন বলেন, এই শীতে সামর্থবান মানুষের উচিত গরীবের পাশে দাঁড়ানো। তাছাড়া প্রতি বছর গরীবদের সরকারি-বেসরকারীভাবে গরমের যে কাপড় সহায়তা করা হয়, তা যদি মানসম্পন্ন হতো, তবে প্রত্যেকেই উপকৃত হতো। তাই অনুরোধ করবো মানসম্পন্ন শীত বস্ত্র সহায়তা করার জন্য। আশাকরি অসহায় মানুষের সাহায্যে সামর্থবানরা এগিয়ে আসলে কষ্ট ভুলে সকলের জীবনেই উপভোগ্য হয়ে উঠবে শীতকাল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত