অসুস্থতা গ্রেপ্তারের ভয়ে বের হচ্ছেন না মান্না!

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:৪৫ এএম

চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে নাগরিক ঐক্য রাজপথে নামলেও দলটির সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে নানা মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। মান্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, শারীরিক অসুস্থতা ও যেকোনো মুহূর্তে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। কিছুটা সুস্থ হয়ে দ্রুত রাজপথে ফিরবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। যারা বলাবলি করছে আমি রাজপথে কেন নেই, আমি সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে যাচ্ছি। এরা মূলত সরকারেরই লোক। সুতরাং তাদের প্রশ্নের কারণে আমার অবস্থান পরিষ্কার করার কিছু নেই। আমি এখনো অসুস্থ, এর মধ্যে সরকার যে ধরপাকড় শুরু করেছিল তাতে আমিও গ্রেপ্তার আতঙ্কে ছিলাম। আমি আরেকটু সুস্থ হয়ে আবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দেব।’ 

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তাকেও নানা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহমুদুর রহমান মান্না। এসব প্রস্তাব মেনে নির্বাচনে যাবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেখানে নির্বাচনই হচ্ছে না, সেখানে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্ন ওঠে কীভাবে। সরকার ৭ তারিখে নির্বাচনের নামে যে তামাশার আয়োজন করেছে তা দেশের সব মানুষের কাছে স্পষ্ট। সরকার কোনোভাবেই তার নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে পারবে না।’

গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির ডাকা মহাসমাবেশ ঘিরে সহিংসতার পরদিন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দলটির স্থায়ী কমিটির আরও কয়েকজন সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সারা দেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমন অবস্থায় বিএনপির নেতারা আত্মগোপনে চলে গেছেন।

বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর অন্য নেতাদের মতো রাজপথের আন্দোলনে দেখা যাচ্ছে না মাহমুদুর রহমান মান্নাকেও। জানান, শ^াসকষ্টে ভুগছেন তিনি।

বিভিন্ন মহল থেকে যে সংলাপের যে দাবি উঠেছে তাকে ইতিবাচক মনে করেন নাগরিক ঐক্যের এই নেতা। তিনি মনে করেন, জাতির এই ক্রান্তিকালে রাষ্ট্রপতিই পারেন দলনিরপেক্ষ সংলাপের আয়োজনের ডাক দিতে। এতে সবাই সাড়া দেবে বলে তার বিশ^াস। মান্না বলেন, ‘যেকোনো সংকট শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা করতে সংলাপের কোনো বিকল্প নেই। তবে সংলাপ সফল করতে হলে কারাগারে থাকা সরকারবিরোধী নেতা-কর্মীদের মুক্তি দিতে হবে।’

সরকারের পদত্যাগের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা চান সরকার পদত্যাগ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন দিক। যেখানে মানুষ কোনো ভয় ও বাধা ছাড়া তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

মান্না বলেন, ‘সরকারের ইশারায় নির্বাচন কমিশন অনলাইনে নমিনেশন ফরম (মনোনয়নপত্র) জমা দেওয়ার নিয়ম করেছে। এখন নমিনেশন জমা নেওয়ার পর কমিশন প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দেবে। আর ৭ জানুয়ারি কিছু কিছু কেন্দ্রে ব্যালট পাঠিয়ে নির্বাচন করে ফেলবে এবং তারপর বিজয়ী সংসদ সদস্যদের নাম ঘোষণা করবে। অনলাইন কার্যক্রম প্রতিহত করার তো উপায় নেই।’

তিনি মনে করেন, সরকারের পতন নিশ্চিত। যদি যেনতেন উপায়ে একটা নির্বাচন করেও ফেলে, তারা টিকে থাকতে পারবে না। কারণ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ‘জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক যে চাপ, তাতে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকার কোনো যৌক্তিকতা, কোনো পরিস্থিতি, পরিবেশ নেই। তাকে যেতে হবে।’ তিনি বলেন, গ্রেপ্তার, হামলা-মামলা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার কোনো ইতিহাস নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত