কাজে না থাকা মানুষ সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ০২:২৪ এএম

দেশে জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে কাজ না করা মানুষের সংখ্যা। একই সঙ্গে কমছে চাকরিতে নিয়োজিত জনসংখ্যাও। শিশু, বৃদ্ধসহ নির্ভরশীল জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশে ধারাবাহিকভাবে কাজ না করা মানুষের হার বাড়ছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার বিভাগ ঢাকায় সবচেয়ে বেশি কর্মহীন মানুষের বসবাস। আর সবচেয়ে কম কর্মহীন মানুষ বসবাস করে বরিশাল বিভাগে। কাজে না থাকা মানুষের বসবাস সবচেয়ে বেশি গ্রামে। সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

সম্প্রতি জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সর্বশেষ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দেশের জনসংখ্যার ২৯ দশমিক ৩২ শতাংশ মানুষ কোনো কাজ করে না। অথচ ২০১১ সালের জনশুমারি অনুযায়ী এই হার ছিল ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। ১১ বছরের ব্যবধানে দেশে কাজ না করা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। অবশ্য স্বাধীনতার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে কাজে না থাকা মানুষের অনুপাত বাড়ছে।

বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯৭৪ সালে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ছিল জনগোষ্ঠীর ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। ১৯৮১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ দশমিক ৫৫ শতাংশে। ১৯৯১ সালে জনসংখ্যার ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ কর্মহীন থাকলেও পরবর্তী এক দশকে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। ২০০১ সালের জনশুমারিতে কর্মহীন ছিল ২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী বলেন, এটা নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। কারণ যারা কাজ করে না তাদের বেশিরভাগই হয়তো শিশু, ছাত্র বা বৃদ্ধ। তারা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বাইরে। তাদের তো কাজ করার কথা না। কারণ ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যে যদি কাজ না করার সংখ্যা বাড়ে তাহলে সেটা অবশ্যই শঙ্কার বিষয়।

বিবিএসের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ৫ কোটি ৪৫ লাখ ৭ হাজার ৩৮৬ জন মানুষ কোনো কাজ করে না। এর মধ্যে পুরুষ ২ কোটি ৭৮ লাখ ২৬ হাজার ২৭৮ আর নারী ২ কোটি ৬৬ লাখ ৮১ হাজার ১০৮ জন। কাজ না করা জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ৯৪ লাখ ২৯ হাজার ৮৬৮ জন মানুষ। এর মধ্যে ৫ লাখ ৭ হাজার ২৯৮ জন মানুষ বিভিন্ন কাজ খুঁজছে। বাকিরা বিভিন্ন কারণে কাজ করে না।

কাজ না করা মানুষের সংখ্যা শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি। বর্তমানে শহরে ১ কোটি ৮০ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৯ জন মানুষ কাজ করে না। সেখানে গ্রামে কাজ করে না ৩ কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার ৭৮৭ জন মানুষ।

শুমারি অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি কাজ না করা মানুষের বসবাস ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ২৮৯ জন মানুষ কোনো কাজ করে না। এরপরই আছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এই বিভাগে কাজ করে না ১ কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ মানুষ। আর সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। এই বিভাগে মাত্র ৩০ লাখ ৮১ হাজার ২৪৩ জন মানুষ কোনো কাজ করে না।

একই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কমছে চাকরিতে নিয়োজিত জনসংখ্যার হার। সবশেষ জনশুমারিতে দেশের জনসংখ্যার ৩৭ দশমিক ২১ মানুষ চাকরিতে নিয়োজিত। ২০১১ সালে যা ছিল ৩৮ দশমিক ১৬, ২০০১ সালে ৩৭ দশমিক ২৫, ১৯৯১ সালে ৪১ দশমিক ৮৪, ১৯৮১ সালে ৪০ দশমিক ৬১ এবং ১৯৭৪ সালে দেশের প্রথম জনশুমারিতে ছিল ৪৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।

এদিকে ধারাবাহিকভাবে কমছে ঘরে কাজ করা মানুষের সংখ্যা। আগের থেকে এখন মানুষে বাইরে বেশি কাজ করে। ফলে গৃহকাজে মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। জনশুমারির ওয়ার্কিং স্ট্যাটাসের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে গৃহকর্মীর হার জনসংখ্যার ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ, যা এক দশক আগে (২০১১) ছিল ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ২০০১ সালে এই হার ছিল ৩১ দশমিক ৯২, ১৯৯১ সালে ছিল ৩৭ দশমিক ৫৩, ১৯৮১ সালে ৩৭ দশমিক ৮৪ এবং ১৯৭৪ সালের জনশুমারিতে গৃহকর্মীর হার ছিল ৩৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যার ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ মানুষ কাজ খুঁজছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত