১১ লাখ ৩৫ হাজার প্রিপেইড গ্যাস মিটার বসাতে চুক্তি

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৪:৩৬ এএম

প্রাকৃতিক গ্যাসের চুরি ও অপচয় রোধে গ্রাহকপর্যায়ে আরও ১১ লাখ ৩৫ হাজার প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এর মধ্যে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের জন্য ৭ লাখ এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের গ্রাহকদের জন্য ৪ লাখ ৩৫ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে জ¦ালানি বিভাগ ও জাপান ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ফর কো-অপারেশনের (জেবিক) মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছে।

তিন বছরের জন্য স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকে জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোছা. লায়লাতুন ফেরদৌস ও জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন ব্যাংকের দিল্লির প্রধান প্রতিনিধি কোরিহারা তুশিহিকো সই করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. নূরুল আলম এবং জেবিকের মহাপরিচালক সুজুকি রাইউতা। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকটি এই কারণে করা হচ্ছে, আমরা যে গ্যাস আনছি বা নিচ্ছি, সেটি যাতে নিরবচ্ছিন্ন ও সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করতে পারি। এই কারণে জাপান ব্যাংক ও জাপান সরকার আরও সাত লাখ মিটার গ্যাস কেনার ব্যাপারে সহযোগিতা করছে। এর আগে আমরা জেবিকের সহযোগিতা পেয়েছি। প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষ্ঠু ব্যবহারে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেই হবে। জাপান ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক ও এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতায় মিটার লাগাতে পারলে গ্যাসের অপচয় রোধ করা যাবে।’

বাংলাদেশে বিনিয়োগে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগে পরিবেশ উন্নত করতেই জাপানি ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর করা হলো। জাপানি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এলএনজি ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ¦ালানি রূপান্তরের অবকাঠামো উন্নয়নে এই সমঝোতা স্মারক কার্যকর অবদান রাখবে।

প্রায় এক যুগ আগে দেশে গ্যাস প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪ লাখের মতো মিটার স্থাপন করেছে গ্যাস বিতরণ কেম্পানিগুলো। অথচ এই মিটার ব্যবহারে গ্যাসের অপচয় কমার পাশাপাশি চুরি বন্ধ হয়। বিতরণকারী সংস্থা তাদের প্রথাগত বিলিং ব্যবস্থার বদলে প্রিপেইড মিটার চালু করার পর গ্রাহকদের গ্যাসের জন্য মাসিক খরচ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। প্রিপেইড মিটারবিহীন গ্রাহক মাসে গড়ে ৭০ ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করেন। অপরদিকে, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহক মাসে গড়ে মাত্র ৩০ ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত