পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় এলাকায় এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকরা। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে উপকূলের কৃষকদের মাঝে। নিম্নচাপটির ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনার খবরে ধান কাটা, মাড়াই দেওয়া ও ধান ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার হাজারো কৃষক।
বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ধান কাটতে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কেউ কাটাচ্ছেন মেশিনের মাধ্যমে, কেউ আবার মানুষ দিয়ে। অনেকে আবার মাঠেই বিক্রি করে দিচ্ছেন ধান। ধান কাটার এতসব আয়োজন সবই সমুদ্রে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে।
কুয়াকাটা এলাকার কৃষক আবদুল মন্নান গাজী বলেন, ‘কিছুদিন আগের ঘূর্ণিঝড়ে খেতের অনেক ধানের ক্ষতি হয়ে গেছে। এখন আবার ঘূর্ণিঝড় আসছে শুনে ধান কাটছি; যাতে আমাদের কষ্টের ধান নষ্ট না হয়।’
একই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার লতাচাপলী, মহিপুর, নীলগঞ্জ, ধুলাসর, ধানখালী, চম্পাপুর, টিয়াখালী, ডালবুগঞ্জসহ পুরো উপকূলে। ধান কাটা, মারাই করা এমনকি বেচাবিক্রিও শুরু হয়ে গেছে।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী দেশ রূপান্তরকে বলেন, দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়াসহ আরও ঘনীভূত হতে পারে। নভেম্বর মাস সাইক্লোনপ্রবণ মাস। জলবায়ুগত কারণে এই লঘুচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি সামান্য পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার এ আর এম সাইফুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুরো উপজেলায় ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। আমরা আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা পাওয়ার সাথে সাথে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি ধান কেটে ঘরে নেওয়ার জন্য। তবে এখনো অনেক জায়গায় ধান পুরোপুরি পাকেনি। তবে আবহাওয়া খারাপ হলে এই সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে কৃষকদের। তাই পুরো উপজেলায় ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
