সরকারি ওষুধ আত্মসাৎ

সিভিল সার্জন ও ভাণ্ডার কর্মকর্তা দণ্ডিত

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ০৪:৩১ পিএম

সরকারি ওষুধ আত্মসাৎ ও বিক্রয়লব্ধ টাকা আত্মসাতের দায়ে দুদকের করা মামলায় চুয়াডাঙ্গার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল হক ভাণ্ডার কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক নামে দুই ব্যক্তির ৫ বছরের কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।

আজ বৃহষ্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ আদালতের বিচারক মো. আশরাফুল ইসলাম দণ্ডিত আসামিদ্বয়ের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন সিলেট কানাইঘাট উপজেলার বীরদল বাজার গ্রামের বাসিন্দা মৃত হাজি আরব আলীর ছেলে ও চুয়াডাঙ্গার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল হক (৬৯) এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ইছাকুন্ডু গ্রামের বাসিন্দা মৃত আজিজুল হকের ছেলে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টোর অফিসার এ কে এম ফজলুল হক (৬২)।

মামলার এজাহার সূত্রের বরাত দিয়ে দুদক কুষ্টিয়ার কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আল মুজাহিদ মিঠু জানান, চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্তব্যরত অবস্থায় ২০০৫ সালে ১টি এবং ২০০৬ সালে ৪টিসহ মোট ৫টি চাহিদাপত্রের অনুকুলে ঢাকাস্থ তেঁজগাওয়ের কেন্দ্রীয় ঔষধাগার হতে বরাদ্দপ্রাপ্ত ইউনিসেফ ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত ওষুধ যার মূল্য ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা যা দুর্যোগকালীন ও আপৎকালীন জনস্বাস্থ্য রক্ষায় পাওয়া। অভিযুক্ত ব্যক্তিদ্বয় চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ওষুধ গুদামে জমা না করে তা বিক্রয় করে পারষ্পরিক যোগসাজসে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন। দুদকের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুষ্টিয়ার উপসহকারী পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম মোড়ল বাদী হয়ে জড়িত দুজনের নামোল্লেক করে দণ্ডবিধি ৪০৯/১০৯ এবং ৪৭ সালে ২ নম্বর আইনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তশেষে ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এজাহারনামীয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত কার্যালয় কুষ্টিয়ার উপপরিচালক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি মিঠু আরও বলেন, মামলায় স্বাক্ষ্য শুনানিশেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল হক এবং স্টোরকিপার এ কে এম ফজলুল হককে ৫ বছর করে করাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকার জরিমানা অনাদায়ে আর দুই মাসের সাজাভোগের আদেশ দেন আদালত। সেই সঙ্গে আত্মসাৎকৃত ওষুধের মূল্যমানে দুজনকে পৃথকভাবে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আর ও ৬ মাসের কারাভোগের আদেশ দেন আদালত। যেহেতু রায় ঘোষণার সময় আসামিদ্বয় পলাতক ছিলেন সে কারণে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বরাবর আসামিদের গ্রেপ্তারে আদেশ প্রেরণের আদেশ দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত