সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চুপুড়িয়া গ্রামে প্রতারণার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে এক স্কুলছাত্রী। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্ধ্যায় অভিযুক্ত প্রতারককে আটক করে সাতক্ষীরা সদর থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
আগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন মিলন জানান, শনিবার সকালে চুপুড়িয়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী কবির হোসেনের মেয়ে সানজিদা পারভিন কুহেলি (১৬) গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করে। সে স্থানীয় সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ-ওসি মো: মহিদুল ইসলাম পরিবারের বরাতে সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় চুপুড়িয়া গ্রামের মৃত নুর উদ্দিনের ছেলে কুতুবুদ্দিন সরদার (৬০) ফাঁদে ফেলে স্থানীয় সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এ ঘটনার প্রমাণ দিয়ে বারবার মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। পরিবার মেয়েটির বিয়ের ব্যবস্থা করলেও অভিযুক্ত কুতুব প্রস্তাবিত বিয়ের ছেলেদের বাড়িতে গিয়ে মেয়েটির বিয়ে ভেঙে দেয়। একই সঙ্গে মেয়েটিকে বিয়ে না করতে এবং তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ধারাবাহিক রাখতে চাপ প্রয়োগ করলে মেয়েটি সকালে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহননে মৃত্যুর পথ বেছে নেয়। মেয়েটির মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুতুবকে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে।
মেয়েটির ফুপু শিরিনা খাতুন জানান, এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মা হারা প্রবাসী বাবার স্কুল শিক্ষার্থীর এই মৃত্যুতে তিনি দোষী ব্যক্তির উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।
