১৯৭১ : সেই সব দিন চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে গত আগস্টে। কিন্তু এই ছবির রেশ এখনো কাটেনি। দেশের সব জেলায় সিনেমা হল না থাকায় এখন দেশের জেলায় জেলায় ঘুরছেন সিনেমার নির্মাতা হৃদি হক। ঠাকুরগাঁও থেকে শুরু হয়েছে চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী। হৃদি হক বলছেন, ‘এই সিনেমার একটা বড় অংশের শুটিং করেছি ঠাকুরগাঁওয়ে। আসলে আমরা একাত্তরের ঢাকাকে দেখানোর জন্য একটা মফস্বল শহর খুঁজছিলাম। যেহেতু ঠাকুরগাঁও আমার পরিচিত শহর। তাই আমি খুব সহজেই সিনেমার শুটিংয়ের জন্য শহরটাকে কল্পনা করতে পেরেছি।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা নির্মাণের জন্য অবকাঠামো ক্রমেই কমে আসছে। সবকিছু বদলে যাওয়া বা আধুনিকায়নের ফলে এটা হচ্ছে বলে ধারণা নির্মাতা অভিনেত্রী হৃদি হকের। হৃদি বলছেন, ‘ইতিহাসভিত্তিক সিনেমা নির্মাণ খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সবকিছু বদলে যাচ্ছে। ফলে পুরনো সময় ক্যামেরায় ধরাটা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বললেন, ‘আমি যখন ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম আসি, তখন শহরটা যেমন ছিল এখন অনেক বদলে যাচ্ছে। এই সিনেমার শেষে দর্শকরা বের হয়ে বিস্ময়ের সঙ্গে বলে, “এটা আমাদের শহর, এত সুন্দর?” আমি হেসে বলি, তোমাদেরই শহর, এটাকে তোমাদেরই গুছিয়ে রাখতে হবে।’
দেশের একক পর্দার সিনেমা হলগুলোতে ১৯৭১ : সেইসব দিন তেমন বড়ভাবে মুক্তি পায়নি। কিন্তু মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। একশ্রেণির দর্শক সিনেমাটিকে গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায়ও সিনেমাটি দর্শকেরা দেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো হলে সিনেমাটি এখনো চলছে বলে জানালেন হৃদি। হৃদি জানালেন, শুধু বাঙালি দর্শক নয়, বিদেশি দর্শকরাও ছবিটি দেখেছেন। নিউ জার্সির মেয়র ও কাউন্সিলররা ছবিটি দেখেছেন। বললেন, ‘আমাদের নগর প্রশাসন থেকে সম্মাননা সনদও দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটি সম্মানের।’
এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে একটি বক্তৃতা সেশনও ছিল। এখানে মূলত বিশ্বের নামিদামি চলচ্চিত্র নির্মাতা এসে নিজেদের চলচ্চিত্র নিয়ে বক্তব্য দেন, একটা সেশন নেন। হৃদি বলেন, ‘এখানে একটা দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমার এই সেশন বেশ উপভোগ্য ছিল। সিনেমার একটা অংশ করে দেখাচ্ছি, তারপর সেটা নিয়ে আলোচনা করছি। বিদেশি শিক্ষার্থীরা আমাদের এই সিনেমা, আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে বেশ আগ্রহের সঙ্গে বোঝার চেষ্টা করেছে।’
চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অভিষেক হলেও হৃদি নিজেকে পুরোদস্তুর মঞ্চের মানুষ মনে করছেন। তবে সমালোচকরা মনে করেন, হৃদির নিয়মিত চলচ্চিত্র নির্মাণ করা উচিত। চলচ্চিত্র নির্মাণে কি নিয়মিত হবেন? হৃদির ভাষ্য, ‘আমি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ। এই পরিকাঠামোতেই থাকব। কিন্তু পরে সিনেমা বানাব, নাকি নতুন নাটক নিয়ে মঞ্চে হাজির হব, তা এখনই বলতে পারছি না। তবে সিনেমা বানাব। পরবর্তী সিনেমা কবে বানাতে যাচ্ছি, এটা এখনই বলতে পারছি না।’
নতুন প্রজন্মের জন্য যেমন সিনেমা হল বাড়াতে হবে, তেমনি ভালো সিনেমাও বানাতে হবে। এমন কথার সঙ্গে একমত হলেও হৃদি হক মনে করেন বিনোদন কিন্তু সংকুচিত হয়নি; বরং প্রসারিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সেটা কীভাবে নিচ্ছি, এটা মুখ্য বিষয়। আমার মনে হয় আমরা কেমন যেন সবার মাঝে ছড়িয়ে যেতে চাইছি না, নিজেদের প্রতি মনোযোগী হচ্ছি; হয়ে উঠছি এককেন্দ্রিক।’