নিজ আসন নিশ্চিতে বড় নেতাদের দ্বারে দ্বারে ধরনা জাপা প্রার্থীদের

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:৩৫ পিএম

নানা আলোচনা-সমালোচনা ও নাটকীয়তার পর আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। এরমধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে দর কষাকষি করছেন দলটির নেতারা। আসন সমঝোতার যে তালিকা তৈরি হচ্ছে সেখানে নিজের আসন থাকছেন কী না এমন দুশ্চিন্তায় জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু ও কো চেয়ারম্যানদের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছেন জাপা প্রার্থীরা।

কেবল নতুন প্রার্থীরা যে ঘুরছনে তা নয়। নিজ আসন নিয়ে দুশ্চিন্তায় চেষ্টা তদবির চালাচ্ছেন দলটির প্রেসিডিয়াম মেম্বার, সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে নতুন সংসদ সদস্যরা। তারা চেষ্ঠা করছেন সমঝোতার তালিকায় যেনো নিজের নামটা রাখা যায়।

ইতিমধ্যে আসন সমঝোতা ও নির্বাচন প্রশ্নে গতকাল বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও একদল নেতাকর্মীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু ও কো চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এই বৈঠকের পর থেকে গতরাত থেকে চেষ্টা তদবির শুরু করছেন এমপি প্রার্থীরা। সবাই নিজের আসন নিশ্চিত করতে মহাব্যস্থ হয়ে দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছেন।আজ বুধবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বনানী অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় একের পর এক প্রার্থীরা কার্যালয়ে আসছেন এবং খোঁজখবর নিচ্ছেন।

অনেকেই জাপা চেয়ারম্যান ও মহাসচিব ঘনিষ্ঠ নেতা থেকে শুরু করে কার্যালয়ে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্ঠা করছেন। আবার অনেকেই কথা বলেন কার্যালয়ে থাকা গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে।সবার একটাই প্রশ্ন কত আসনে ছাড় দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। কে কে সমঝোতার এমপি হতে যাচ্ছেন।

জাপা কার্যালয়ে কথা হয় বর্তমান সংসদে থাকা এক এমপির সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার এলাকায় আওয়ামী লীগের যে দাপট সেখানে ভোটের মাঠে টিকে থাকতে পারবো না। এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যে আসন সমঝোতা চলছে তা যত দ্রুত চূড়ান্ত হবে ততই মঙ্গল। সমঝোতা ছাড়া জাপার নেতারা যে বড় বড় কথা বলছেন তারাই হারবেন সবার আগে।

আরেক এমপি বলেন, গতরাত থেকে বড় নেতাদের সঙ্গে কথা বলছি কিন্ত কেউ সঠিক তথ্য দিতে পারছেন না। এভাবে দুশ্চিন্তা নিয়ে থাকা যায় না।

জাপার দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, আসন বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। আমাদের যে দাবী তার অর্ধেক দেওয়ার কথা আলোচনায় উঠে এসেছে, এই সংখ্যা ২৫ এর বেশী হবে না। ফলে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ডেপুটি স্পিকার ও ৫টি মন্ত্রণালয় নিয়ে আমাদের যে দাবি ছিল তা আওয়ামী লীগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি মন্ত্রী সভায় জাপাকে রাখলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে এ ক্ষেত্রে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সভাপতি বেশি করবে জাপা থেকে।

সূত্র জানায়, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ২০১৪ সালের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসন ছাড়তে রাজি নয় আওয়ামী লীগ। এ ক্ষেত্রে অন্য দলের প্রার্থী যেখানে থাকবে সেখান থেকে আওয়ামী লীগ ও তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উঠিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কিছুটা সমঝোতা হলেও যেখানে অন্য দলের ভালো প্রার্থী নেই সেই আসনের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।

তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু ইতিমধ্যে সাফ জানিয়ে  দিয়েছেন কোনো আসন সমঝোতা নিয়ে তাদের বৈঠকে আলোচনা হয়নি। সেখানে কেবল নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত