মুমিনের পরিচয় ও পরীক্ষা

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:৫২ এএম

মুমিন শব্দটি আরবি। অর্থ বিশ্বাসী, আত্মসমর্পণকারী, নতশির ইত্যাদি। নিজের সব চাওয়া-পাওয়া, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, সুখ-আনন্দকে বিসর্জন দিয়ে জীবনের সব ক্ষেত্রে কেবলমাত্র মহান রবের নির্দেশকে যিনি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন বা মেনে নেন তাকেই পরিভাষায় মুমিন বলা হয়। এ জন্য মুমিনকে নানবিধ ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। হাদিসে বিষয়টি বলা হয়েছে এভাবে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফের ব্যক্তির জন্য জান্নাতের সমতুল্য।’ সহিহ মুসলিম : ২৯৫৬

কিন্তু এই কষ্ট ও ত্যাগেরও রয়েছে বিশাল মূল্য। হজরত আনাস (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা কোনো মুমিনের নেক কাজকে নষ্ট করেন না, দুনিয়াতেও তার বিনিময় প্রদান করেন আবার আখিরাতে তার প্রতিদান দেন। আর কাফের আল্লাহর জন্য যেসব ভালো কাজ করে দুনিয়াতে সে তার বিনিময় ভোগ করে, অবশেষে যখন সে আখিরাতে পৌঁছাবে, তখন তার (আমলনামায়) কোনো ভালো কাজ থাকবে না যার প্রতিদান সে পেতে পারে। সহিহ মুসলিম : ৫১৫৯

কোরআন-হাদিসের একাবিধ বর্ণনায় আছে, মুমিন বান্দাকে নানা সময়ে আল্লাহতায়ালা নানা উপায়ে পরীক্ষা করে থাকেন। এসব ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণকারীদের জন্য আল্লাহতায়ালা কোরআন মাজিদে সুসংবাদ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তোমাদের সামান্য ভয়, ক্ষুধা এবং ধনসম্পদ, প্রাণ ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দিয়ে অবশ্যই পরীক্ষা করব। আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন, যারা বিপদে আক্রান্ত হলে বলে, আমরা তো আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চিতভাবে তার দিকেই ফিরব।’ সুরা বাকারা : ১৫৫-১৫৬

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত