রাজধানীতে চলতি মাসে ইসলামপন্থি দুটি দল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৬ ডিসেম্বর পতাকা র্যালি এবং ২৯ ডিসেম্বর হেফাজতে ইসলাম মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গতকাল শুক্রবার আলাদা কর্মসূচি পালনের পর এ ঘোষণা দেয় দল দুটি।
গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে ‘বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক একতরফা নির্বাচনী তফসিল বাতিল, সব রাজবন্দিদের মুক্তি, বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকারের অধীনে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে’ বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে দলটির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানি বলেন, ‘বেচাকেনার হাটের মতো প্রার্থী ও দলকে নির্বাচনে আনা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু খুব পেরেশানিতে আছেন, তাদের সিট কনফার্ম না পেয়ে।’ এ সময় আগামী ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পতাকা র্যালির কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।
জাতীয় পার্টি ও তৃণমূল বিএনপি প্রসঙ্গে মাদানি বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়েছে। জাতীয় পার্টি জাতির জন্য একটা বিষফোড়া। ২০১৪ সালে আবার ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন করে বৈধতা দিয়েছে। তারা বিরোধী দল হয় কীভাবে? আর তৃণমূল বিএনপি আওয়ামী লীগের তল্পিবাহক। টাকা ও সিট ছেড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ তাদের নিয়েছে।’
সমাবেশের পর একটি বিশাল মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়, বিজয়নগর পানির ট্যাংকি হয়ে আবার বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে এসে শেষ হয়।
এদিকে গতকাল বিকেলে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমান মাওলানা মামুনুল হকসহ আলেমদের মুক্তির দাবিতে ঢাকায় ২৯ ডিসেম্বর মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘অতি অল্প সময়ের মধ্যে মামুনুল হকসহ সব আলেম-ওলামাদের মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় ২৯ ডিসেম্বর শুক্রবার সারা দেশ থেকে জনগণ জড়ো হয়ে মহাসমাবেশ করবে।’
কারাবন্দি আলেমদের মুক্তি, হেফাজত নেতাদের নামে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার ও শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ফ্রি মিক্সিংসহ ইসলামবিরোধী পাঠ বাতিল এবং হেফাজতে ইসলাম ঘোষিত ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মহিউদ্দিন বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে সব আলেমকে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের আগেই হেফাজতে ইসলাম কঠোর কর্মসূচিতে যাবে।’
