নোয়াখালীতে দুই সোনার দোকানে ডাকাতি

প্রহরীকে খুন করে ২০০ ভরি সোনা ৪০০ ভরি রুপা লুট

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:২৪ এএম

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে এক নৈশপ্রহরীকে খুন করে দুটি সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা ২০০ ভরি সোনা ও প্রায় ৪০০ ভরি রুপা লুট করে নিয়ে গেছে। ডাকাতদের হামলায় নিহত নৈশপ্রহরীর নাম মো. শহীদ উল্যা (৫০)। তিনি উপজেলার উপদ্দি লামছি গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। ডাকাতরা আরও দুই প্রহরীকে পিটিয়ে আহত করেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টা থেকে গতকাল শুক্রবার ভোর পৌনে ৫টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ২০ থেকে ২৫ জনের একদল ডাকাত একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে চাপরাশিরহাট পশ্চিম বাজারে ঢোকে। এ সময় ডাকাতরা নৈশপ্রহরী অজি উল্যা ও ইসমাইল হোসেনকে বেঁধে ফেলে এবং তাদের মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেয়। এ ছাড়া শহীদ উল্যার মাথায় আঘাত করে মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে। তার রক্তক্ষরণ হতে থাকে। একপর্যায়ে শহীদ উল্যা মারা যান। পিটিয়ে আহত করে বেঁধে রাখা হয় অন্য দুই প্রহরীকে।

বিষয়টি টের পেয়ে বাজারে থাকা দুজন অটোরিকশাচালক বের হলে তাদেরও মারধর করে বেঁধে রাখা হয়। পরে তারা বাজারের মা-মনি জুয়েলার্স ও নূর জুয়েলার্স নামের দুুটি দোকানের লকার ভেঙে সোনা এবং টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

মা-মনি জুয়েলার্সের মালিক মিন্টু চন্দ্র নাথ জানান, ভোর ৫টার দিকে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী তাকে ফোন দিয়ে জানান তার দোকানে ডাকাতি হয়েছে। দ্রুত এসে দেখেন দোকানের সাটারের তালা ভাঙা। ভেতরে ঢুকে দেখেন তার দোকান থেকে ২০০ ভরি সোনা, ১৫০ ভরি রুপা ও ৩ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে ডাকাতরা।

নূর জুয়েলার্সের মালিক নুর আলম জানান, ডাকাতরা তার দোকান থেকে ৭ ভরি সোনা, ২৫০ ভরি রুপা লুট করে নিয়ে গেছে।

এদিকে বাজারের ব্যবসায়ী নিয়ামত উল্যাহ রাকিব বলেন, ‘ঢাকায় পণ্য কিনতে যেতে ভোর রাতে বাড়ি থেকে আসার সময় বাজারে পৌঁছালে দেখি মুখোশধারী কিছু লোক। তারা আমার ঘাড়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে তিন লাখ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।’

নৈশপ্রহরী অজি উল্যাহ বলেন, ডাকাতরা তার চোখ, মুখ, হাত ও পা বেঁধে ট্রাকে তুলে ফেলে। এর আগে নৈশপ্রহরী শহীদের মুখে কাপড় গুজে দিয়ে তার মুখ, চোখ, হাত-পা বেঁধে ফেলতে দেখেন তিনি। একই সময় একজন অটোরিকশাচালক ও স্থানীয় এক দোকানিকেও বেঁধে ফেলে তারা। নৈশপ্রহরী শহীদের মাথায় আঘাত করে ডাকাতরা। এরপর তিনি আর কিছু দেখতে পাননি। তবে ফজরের আজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাক থেকে তাকে নিচে ফেলে দিয়ে চলে যায় ডাকাতরা।

চাপরাশিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন টিটু জানান, গতকাল শুক্রবার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মীর্জা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে নিহতের পরিবারের জন্য ৫০ হাজার টাকা, মা-মনি জুয়েলার্সকে দুই লাখ ও মেসার্স নূরু জুয়েলার্সকে এক লাখ টাকা অনুদান দেন।

কবিরহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম খুন ও ডাকাতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে অনেক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি, তদন্তের স্বার্থে এখন বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত