শীতকালে মানুষের মতো গাছেরও প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। শীত এলেই বেড়ে যায় ধুলো-বালি। প্রচুর ধুলোবালির কারণে গাছ মলিন হয়ে পরে।
শীতের আবহাওয়া বছরের বাকি সময়ের থেকে খানিকটা আলাদা। শীতে রোদ থাকে কম, তাড়াতাড়ি সন্ধ্যা হয়। অধিকাংশ সময় মেঘলা থাকে চারপাশ। প্রকৃতির এমন আচরণে প্রভাব পড়ে মাটির উপরেও।
তবে সারাবছর যেমন তেমন শীতের সময়টাতে মানুষের মতো গাছেরও নিতে হয় বাড়তি যত্ন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি উপায় মেনে চললেই যত্নে বড় করা গাছ শীতের দাপটেও প্রাণ হারাবে না বা শুকিয়ে যাবে না।
১. ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখুন
গাছের গায়ে যেন ঠান্ডা বাতাস না লাগে, তার জন্য পাতলা প্লাস্টিক বা ফাইবারের শিট দিয়ে বারান্দার চারপাশ ঘিরে রাখতে পারেন। এতে করে বাতাসের ছাট কম লাগবে এবং গাছও শুকাবে না।
২. গাছের শেকড় ঢেকে রাখুন
বারান্দা যদি ঘিরে ফেলতে না পারেন, সে ক্ষেত্রে টবের মাটি মোটা কাপড়, খড়, বা নারকেলের ছোবড়া জাতীয় জিনিস দিয়ে ঢেকে দিয়ে রাখতে পারেন। যা গাছের মাটি গরম রাখতে সাহায্য করে।
৩. গাছেদেরও ঠান্ডা লাগে
চারাগাছ কিংবা অঙ্কুরিত বীজ ঠান্ডায় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাদের সুরক্ষিত রাখতে উলের চাদর কিংবা পাটের বস্তার মোড়কের মধ্যে রাখতে পারেন। শীতে আর্দ্রতার অভাবে মাটি শুকিয়ে যায়। তাই মাটিতে পানির অভাব যেন না থাকে, সে দিকে লক্ষ রাখুন।
৪. একসঙ্গে রাখুন
খুব ঠান্ডা পড়লে যেমন ছোটরা একসঙ্গে জড়োসড়ো হয়ে থাকে, তেমন ভাবেই গা ঘেঁষাঘেঁষি করে রাখুন ছোট চারাগাছগুলি। তুলনায় বড় গাছগুলোকে সামনে রাখুন। যাতে চারাগাছ পর্যন্ত ঠান্ডা বাতাস পৌঁছতে না পারে।
৫. ঘরের মধ্যে রাখুন
বেশ কিছু গাছ ঘরে-বাইরে দুই জায়গাতেই ভাল থাকতে পারে। তাই সুযোগ-সুবিধা বুঝে কখনও বাইরে, আবার কখনও ভেতরে রাখার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে রাতে ঘরে এবং দিনের বেলা রোদ উঠলে বাইরে রাখুন।
৬. গাছে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা
ঠান্ডায় বাতাসে আর্দ্রতার অভাব হয়। তাই মাটি শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায় বেশি। আবার শীতকালে রোদের তেজ বেশি থাকে না। তাই অনেক সময়ে মাটি ভিজেও থাকতে পারে। তাই সব দিক দেখে, বুঝে, তবেই গাছে পানি দিন।
৭. শুকনো ডাল ছেঁটে দিন
গাছের ডাল, পাতা শুকিয়ে গেলে মন খারাপ করে লাভ নেই। তা ছেঁটে দিতেই হবে। তবেই সেখান থেকে আবার নতুন পাতা জন্মাবে।