এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি তাতে পাকিস্তানে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ইমরান খান হয়তো অংশ নিতে পারছেন না। তবে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক ই-ইনসাফ (পিটিআই) রাজনীতির ময়দান ছাড়েনি। পাকিস্তানে আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনে ইমরানের দল ‘ব্যাট’ প্রতীকেই লড়তে চাইছে। কিন্তু এখানেও বাঁধার মুখে পড়তে হচ্ছে পিটিআইকে। দলটির অভিযোগ, তাদেরকে আসন্ন ভোটে ‘ব্যাট’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে গড়িমসি করছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন-এর এক প্রতিবেদনে পিটিআইয়ের এই প্রতীক প্রতিবন্ধকতায় পড়ার কথা উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী, তোশাখানা কেস বা উপহার হিসেবে পাওয়া রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রির মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় ইমরান খান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না বা দলীয় পদে থাকতে পারবেন না।
এদিকে পিটিআইকে তাদের নির্বাচনী প্রতীক ‘ব্যাট’ ধরে রাখতে ২০ দিনের মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে নেতৃত্ব নির্বাচনের সময়সীমা বেঁধে দেয় পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। পাকিস্তানের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন বা অন্তঃদলীয় নির্বাচন যদি না হয় তাহলে সেই দলকে নির্বাচনী প্রতীক দেওয়া হয় না।
এই বিধি মেনে ইসিপির নির্দেশে ২ ডিসেম্বর পিটিআই দলের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যারিস্টার গহর আলী খানের নাম ঘোষণা করে। কিন্তু এখনো পিটিআইকে তাদের প্রত্যাশিত ব্যাট প্রতীক দেয়নি ইসিপি।
এর প্রতিক্রিয়ায় পিটিআই মুখপাত্র বলেন, ‘দলের ভেতরে নির্বাচনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র আমরা নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছি। আমরা আর কোনো জটিলতা চাই না। অবিলম্বে আমাদের ব্যাট প্রতীক বরাদ্দ নিশ্চিত করা হোক। ’
পিটিআই মুখপাত্র অভিযোগ করেন, একের পর এক জটিলতা-প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখার পায়তারা চলছে। তিনি বলেন,‘ পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অনাচার হচ্ছে। নির্বাচনের আগে যে কারসাজি হচ্ছে এসব তারই অংশ।’
দলের নির্বাচনী প্রতীক এখনো বুঝে না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করে পিটিআই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘ সাধারণ নির্বাচন প্রায় চলে এসেছে, অথচ আমাদের এখনো ব্যাট প্রতীক দেয়নি ইসিপি। এই গড়িমসি নির্বাচন-পূর্ব মারাত্মক কারসাজি-কারচুপিই দেখিয়ে দিচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, ইমরান খানের পিটিআই ব্যাট প্রতীক নিয়ে একাধিকবার ভোটগুলোতে লড়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও পিটিআইয়ের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ব্যাট। কিন্তু এবছর ইমরানের গ্রেপ্তার তার দলকে যেমন বেকায়দায় ফেলেছে তেমনি পিটিআইয়ের মার্কাও পড়ছে জটিলতার মুখে। এমনকি এবছর অক্টোবরে ইশতেহকাম-ই-পাকিস্তান পিটিআইয়ের ব্যাট প্রতীক ছিনিয়ে নিতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে রেখেছে।
