উচ্চ শিক্ষার আঁতুড়ঘর বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়বহন করে এর লোগো প্রতীক। এই লোগোতে বিস্তারিত রচনা না লেখা থাকলেও কেবল লোগোই বলে দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, দর্শন, স্থানীয় বা দেশীয় বৈশিষ্ট্যের কথা। লোগোই যেন বলছে বিশ্ববিদ্যালয়টির মর্মকথা।
বিশ্বের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চমৎকার ডিজাইন ও স্বকীয়তার বার্তাবাহী কয়েকটি লোগোর কথা জেনে নেওয়া যাক:
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
অক্সফোর্ড বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এক বিদ্যাপীঠ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকী পরিচয় এর লোগো। ধারণা করা হয়, ১৪০০ সালের দিকে এই লোগোর জন্ম। ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের লোগোতে শিল্ড বা বর্মের পটভূমির ওপর রয়েছে একটি খোলা বই, যাতে লাতিন ভাষায় লেখা ডমিনাস ইলুমিনাতিও মেয়া, যার ইংরেজি দ্য লর্ড ইজ মাই লাইট অর্থাৎ স্রষ্টাই আমার পথপ্রদর্শক। বইয়ের উপরে দুই পাশে রয়েছে দু’টি এবং নিচে মাঝ বরাবর একটি মুকুট।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলো ইউনিভার্সিটি অব হার্ভার্ড। এর লোগোতেও মেরুন শিল্ডের ওপর তিনটি বইতে পৃথকভাবে লাতিনে লেখা আছে ভে রি তাস যা সম্মিলিত ভেরিটি-ট্রুথ অর্থাৎ সত্যের বার্তা বহন করে।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটি। যথারীতি এই লোগোতেও গাঢ় নীল রঙের একটি শিল্ড বা বর্মের মধ্যে রয়েছে একটি বই, যাতে হিব্রু ভাষায় লেখা আছে উরিম ভে থামিম, এর ইংরেজি অর্থ লাইট এন্ড ট্রুথ অর্থাৎ আলো ও সত্য, যা ইয়েল ইউনিভার্সিটি পত্তনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ধর্মীয় দর্শনের পরিচয় বহন করছে।
কায়রো ইউনিভার্সিটি
নীলনদ আর পিরামিডের দেশ মিসরে ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কায়রো ইউনিভার্সিটি। মিসরীয় সভ্যতার ছাপ স্পষ্ট এই বিশ্ববিদ্যালয়টির লোগোতে। প্রাচীন মিসরীয় পুরাণে বর্ণিত জ্ঞান ও লিপির দেবতা থথের ছবি রয়েছে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ণিল লোগোতে।
মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়
১৮৫৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোতেও রয়েছে পুরাণের দেবী নাইকির প্রতিকৃতি। তিনি বিজয়ের দেবী। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোতে এই দেবীর পায়ের নিচেই লেখা আছে পোস্তেরা ক্রেসকাম লাউদে, যার ইংরেজি আই শ্যাল গ্রো ইন দ্য এস্টিম অব ফিউটার জেনারেশন’ অর্থাৎ আমি আগামী প্রজন্মের প্রজ্ঞায় বেড়ে উঠবো।
