এ বছর নিপাহ ভাইরাসে ১৪ আক্রান্তের ১০ জনেরই মৃত্যু

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:০২ এএম

এ বছর দেশে নিপাহ ভাইরাসে ১৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ১০ জন। সেই হিসাবে আক্রান্ত অনুপাতে মৃত্যুহার ৭১ শতাংশ। এ বছর প্রথমবারের মতো নরসিংদীতে ১ জন আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সব মিলে ৭ জেলার ৯ উপজেলায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এমন তথ্য জানিয়ে দেশের মানুষকে নিপাহ ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, নিপসম এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা। গতকাল রবিবার আইইডিসিআর মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার এবং ঝুঁকিবিষয়ক অবহিতকরণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ সতর্কতা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা জানান, বাদুড়ের শরীরে নিপাহ ভাইরাস থাকে। বাদুড়ের লালা ও প্রস্রাব খেজুরের রসে মেশে। সেই রস কাঁচা অবস্থায় খেলে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। সংক্রমিত মানুষ থেকেও সংক্রমণ ঘটে। বাদুড়ে খাওয়া ফল থেকেও নিপাহ সংক্রমণের ঝুঁকি আছে। তবে এ পর্যন্ত ফল থেকে সংক্রমণের কোনো নজির গবেষকদের চোখে ধরা পড়েনি। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ডিসেম্বর থেকে মে মাসের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে ২০০১ সালে প্রথম নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। এখন পর্যন্ত রোগটি দেশের ৩৪ জেলায় ছড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৩৩৯ জন এবং মারা গেছে ২৪০ জন; অর্থাৎ মৃত্যুহার ৭১ শতাংশ। মৃত্যুহার বিবেচনায় যা অত্যন্ত শঙ্কাজনক।

পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলা হয়, এ বছর দেশের ৭ জেলায় ১৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। প্রথমবারের মতো নরসিংদী জেলায় সংক্রমণ ঘটেছে। এটি নতুন করে শঙ্কার কারণ। এত দিন শুধু উত্তরাঞ্চলে ঘটছে ধারণা করা হলেও এখন তা মধ্য অঞ্চলে পাওয়া গেছে।

অনুষ্ঠানে নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মিরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এখনো দেশে নিপাহ আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। তাই দ্রুত শনাক্ত হলেই বেঁচে যাবে তা বলা কঠিন। আর যারা বেঁচে যায়, তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছে না, পঙ্গুত্ব বরণ করছে; অর্থাৎ প্রতিরোধ ছাড়া নিপাহ থেকে মুক্তির কোনো সুযোগ নেই। আমরা অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হই। নিজে না খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও যখন রস উৎসব বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে থাকি তখন ঠিকই খাচ্ছি। এটি বন্ধের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহদাত হোসেন বলেন, রোগ শনাক্তে আরও জোর দিতে হবে। যেহেতু এই রোগের কোনো প্রতিষেধক নেই, তাই মানুষের কাছে এর তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবুল হোসেন মঈনুল হোসেন বলেন, ‘আমরা যত দিন আইনি বিধির মধ্যে না আনব. তা কতটা কার্যকর হবে সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। খাবে না বললেই মানুষ খেজুরের রস খাবে না, তা নয়। এ বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা যায় কি না, তা আইইডিসিআর বিবেচনা করতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত