সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ ২৮-এ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দেশগুলো। এ নিয়ে একটি খসড়া চুক্তিতে সম্মতি জানিয়েছে সবাই।
বিবিসি জানিয়েছে, নতুন এই চুক্তি অনুযায়ী দেশগুলো ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার থেকে সরে আসবে। কিন্তু জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার একেবারে বন্ধ করে দেবে না, যা করতে এই সম্মেলনে অনেক দেশই জোর দাবি জানিয়েছিল।
জীবাশ্ম জ্বালানি এখনি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়েই সম্মেলনের শেষের কয়েক ঘণ্টা পার হয়। সেসময় বেশ কয়েকটি দেশ উত্থাপিত খসড়া চুক্তিকে দুর্বল আখ্যা দেয়। এর আগের একটি খসড়া প্রস্তাবনায় লেখা হয়েছিল, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হবে। কিন্তু সর্বশেষ এই খসড়ায় সে কথা রাখা হয়নি। এ নিয়ে চলতে থাকে রাতভর আলোচনা। পরে নতুন করে সংশোধিত একটি চুক্তির খসড়া প্রকাশ করা হয় যাতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি যুক্ত করা হয়।
এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক অভিহিত করে কপ-২৮ এর সভাপতি সুলতান-আল-জাবের বলেছেন, ‘এই প্রথমবারের মতো আমাদের চুক্তিতে জীবাশ্ম জ্বালানির কথা উল্লেখ করা হলো।’
বিবিসি বলছে, আগের কোনো কপ সম্মেলনে তেল, গ্যাস এবং কয়লার ব্যবহার থেকে সরে আসতে ঐকমত্য দেখা যায়নি। পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধিকে মাত্রার মধ্যে (১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রাখার বিষয়টি চুক্তিতে লিখিত আকারে রাখা হল। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর মাধ্যমে বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা, যা লাখো মানুষের জীবনকে বিপন্ন করছে।
জলবায়ু সংকটের জন্য মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি দায়ী। তাই জীবাশ্ম জ্বালানির যুগ শেষ করতে এর আগেই দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছিলেন জাতিসংঘ প্রধান। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়তে থাকলেও এখনও বিশ্বের জ্বালানির প্রায় ৮০ শতাংশই আসে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে।
