গাজীপুরের কালীগঞ্জে আসামি ধরে থানায় ফেরার পথে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ওয়্যারলেস সেট ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়েছে আসামি। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের ডেমরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছে। তারা হলেন ফাতেমা বেগম (৫০) ও তার মেয়ে হাফসা বেগম (১৮)। পালিয়ে যাওয়া আসামির নাম আরিফ (৪০)।
হামলায় আহত এসআই সাব্বির হায়দার শুভ ঢাকায় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত অন্যরা হলেন এসআই শামীম আল মামুন, এএসআই সুলতান মাহমুদ ও কনস্টেবল নাইমুর রহমান। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি মামলার আসামি আরিফকে গ্রেপ্তার করতে এসআই সাব্বির হায়দার শুভর নেতৃত্বে ডেমরা এলাকায় তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশকে আরিফের পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে এসআই সাব্বিরের সঙ্গে থাকা ওয়্যারলেস সেট ছিনিয়ে নেয় আরিফ। আরিফসহ তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশর ওপর চড়াও হন। এরপর থানায় খবর দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে পুনরায় আরিফকে গ্রেপ্তারের অভিযানে নামে পুলিশ। সে সময় আরিফের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়।
হামলায় ওই চার পুলিশ সদস্য আহত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। আরিফ পালিয়ে গেলেও তার মা ফাতেমা বেগম ও বোন হাফসাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
অভিযানের নেতৃত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) সাব্বির হায়দার শুভ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি অসুস্থ আছি। ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলুন।’
কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব চক্রবর্তী বলেন, আহত কনস্টেবল নাইমুর রহমানকে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার ও ওয়্যারলেস সেট উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জে দুই পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আহত করে আমান আলী ওরফে আমান উল্লাহ নামে এক আসামি হাতকড়া নিয়ে পালিয়ে যান।
