নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মিছিলে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা আগ্নেয়াস্ত্রটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। গত ১ ডিসেম্বর প্রদর্শিত অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হক স্বাক্ষরিত একটি সুপারিশপত্র নড়াইল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাছে পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে সেই অস্ত্রের লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নড়াইল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিসি মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী।
দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, এক সপ্তাহ আগে অস্ত্রের লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়েছে । নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নারায়ণগঞ্জে এই অস্ত্রটি প্রদর্শন করা হয়। এ কারণে অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ নভেম্বর দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মিছিলে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করেন তার অনুসারী আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম রসুল কলির গানম্যান আশিকুজ্জামান । বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে অস্ত্রসহ লাইসেন্সটি জব্দ করে পুলিশ। পরে ৩০ নভেম্বর মন্ত্রী গাজীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠান নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির সভাপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী জজ শেখ আনিসুজ্জামান। এছাড়াও গোলাম দস্তগীর কিংবা তার প্রতিনিধিকে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ারও নির্দেশ দেন।
কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, গত ২৯ নভেম্বর দুপুরে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী সশস্ত্র কর্মীসহ মিছিল নিয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। যা নির্বাচন আচরণবিধিমালা ২০০৮ এর ৬ (ঘ), ৮ (ক) ও (খ), ১১ (ঘ) এবং ১২ এর গুরুতর লঙ্ঘণ।
পরদিন গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রতিনিধি মুন্না খান সিনিয়র সহকারী জজ শেখ আনিসুজ্জামানের কক্ষে উপস্থিত হয়ে গোলাম দস্তগীর গাজীর পক্ষে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন বলে জানিয়েছেন আদালতের পেশকার ইবনে সাউদ।
