বাংলাদেশের রেটিং পূর্বাভাস নেতিবাচকই থাকছে : ফিচ

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:০০ এএম

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশের পূর্বাভাস স্থিতিশীল থাকলেও শুধু ‘নেতিবাচক’ আছে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের রেটিং। সম্প্রতি প্রকাশিত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের (এপিএসি) সার্বভৌম আউটলুক ২০২৪-এ এমন তথ্য জানিয়েছে বৈশ্বিক ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা ফিচ রেটিং।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস কমিয়ে নেতিবাচক করেছিল ফিচ রেটিং। ওই পূর্বাভাসে সংস্থাটি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা ইস্যুয়ার ডিফল্ট রেটিং (আইডিআর) স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচক (বিবি মাইনাস) করেছে। আইডিআর স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচক হওয়ার অর্থ হচ্ছে, বাংলাদেশের খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি, তবে বাংলাদেশ এখনো তার ঋণের দায় মেটাতে বা বাধ্যবাধকতা পূরণে সক্ষম।

ফিচ এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশের রেটিং করে থাকে, সেগুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধেক দেশে আগামী বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। এ কারণে দেশগুলোতে নীতি বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের গতি কমে যেতে পারে। অন্যদিকে কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো দেশে বর্তমানের মতো আগামী বছরেও ভূরাজনীতির প্রভাব কাজ করবে। এর আগে বৈশি^ক ঋণমান নির্ণয়কারী আরও দুই বড় প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এবং মুডিস ইনভেস্টর সার্ভিসও বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়েছে। এসঅ্যান্ডপি, মুডিস ও ফিচ রেটিং এ তিন প্রতিষ্ঠানকে সম্মিলিতভাবে ‘বিগ-থ্রি’ বলা হয়। ঋণমান নির্ণয়ে এ তিন সংস্থাকে বিশে^ সবচেয়ে প্রভাবশালী ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান বলে মনে করা হয়।

ফিচের সেপ্টেম্বরের রেটিং পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের অর্থনীতির বহিস্থ খাতের অবনতির ঝুঁকি রয়েছে। ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, যেমন মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণের পদ্ধতি পরিবর্তন, ঋণদাতাদের সহায়তা নেওয়া এসব করেও বিদেশি মুদ্রার মজুদের পতন ঠেকানো যায়নি বা বাজারে ডলারের সংকট মেটানো যায়নি। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এসব বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিলেও সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত