‘অনুপ আমাকে ইলিশ মাছ রেঁধে খাইয়েছিল, বাটিটা এখনো আমার কাছেই রয়ে গেছে’

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:১৮ এএম

শাস্ত্রীয় সঙ্গীত নিয়ে ছিলেন বড্ড খুঁতখুঁতে। কারণ, সেই বিষয়ে পড়াশোনা ছিল বিস্তর। গান গাওয়ার ক্ষেত্রে ত্রুটিবিচ্যুতি ভারী অপছন্দ ছিল তার। গায়িকা হৈমন্তী শুক্ল ছিলেন তার সমসাময়িক। যদিও একে অপরকে দাদা-দিদি বলেই সম্বোধন করতেন। দুজনের মধ্যে সেতুবন্ধনের মাধ্যম ভাষা। একে অপরের মধ্যে এই ভাষাতেই কথোপকথন চলত।

অনুপের মৃত্যুর খবরে মনভার হৈমন্তীর। তিনি বললেন, আর কিছু দিন থাকতে পারত, হয়তো সময় হয়ে গিয়েছিল।

হৈমন্তী বলেন, ওর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ওপর বিরাট দখল ছিল। সব রকমের গান গাইতে পারত। খুব মেধাবী ছিল। সত্যজিৎ রায় কেন তাকে দিয়ে গানগুলো গাইয়েছিলেন, তার গায়কীতেই স্পষ্ট। তেমনই ভালো নজরুলগীতি গাইত। ভুলভাল গাইলে রেগেও যেত।

শিল্পী অনুপের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে হৈমন্তীর, তবে মানুষ অনুপের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক ছিল গায়িকার? হৈমন্তীর কথায়, আমার সঙ্গে ওর একটা হৃদয়ের সম্পর্ক ছিল। আমাকে নিজের বোনের মতো দেখত। কখনো গানের মাঝে বলত, বেশি উঁচু স্কেলে না গাইতে। কারণ, অনেক দিন গাইতে হবে। গলার যত্ন নিতে বলত। গানের মাঝে ভালো চা পাতা দিয়ে চা করে খাওয়াত। এগুলো সবই প্রকৃত শিল্পীর পরিচয়। তবে একটা সময় যোগাযোগ কমতে থাকে। ও আমাকে একবার ইলিশ মাছ রেঁধে খাইয়ে ছিল, সেই বাটিটা আজও আমার কাছে রয়ে গিয়েছে। আমার খুব মনটা খারপ হয়ে গেল শুনে। আরও একটু থাকতে পারত।

১৯৬৭ সালে মুক্তি পাওয়া 'গুপী গাইন বাঘা বাইন' ছবির 'দেখো রে নয়ন মেলে', 'ভূতের রাজা দিল বর', 'ও মন্ত্রী মশাই'-এর মতো কালজয়ী গান তার গাওয়া। ১৯৮০ সালে মুক্তি পাওয়া 'হীরক রাজার দেশে' ছবির 'মোরা দুজনায় রাজার জামাই', 'আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে', 'এসে হীরক দেশে'র মতো গানও অনুপ ঘোষালেরই গাওয়া। জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছিলেন অনুপ ঘোষাল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত