বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. জিয়াউল হক মোল্লার মালিকানাধীন হক পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুরের পর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
আজ শনিবার ভোর ৪টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার বনানী মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় পাম্পে অকটেন ও পেট্রোল দেওয়ার তিনটি যন্ত্র ভাঙচুর করা হয়। পেট্রোল বোমা দিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এদিকে ওই পাম্পের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন দুর্বৃত্ত মুখে কাপড় দিয়ে পাম্প ভাঙচুর শুরু করে। এরপর তারা পরপর তেল সরবরাহ করা যন্ত্রে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর তারা সেখান থেকে চলে যায়।
ডা. জিয়াউল হক মোল্লা বলেন, পাম্পে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। কে বা কারা করেছেন তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তিনি।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, ভোরের দিকে ৭ থেকে ৮ জন দুর্বৃত্ত পেট্রোল পাম্পে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় তারা পাম্পে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের উপস্থিতি পেয়ে পালিয়ে যায়। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর কাহালুর তিনদিঘী বাজারে ডা. জিয়াউল হক মোল্লার নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় স্বতন্ত্র এই প্রার্থী ও দুই কর্মী আহত হন। ওই সময় তিনি হামলার জন্য বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনকে দায়ী করেছিলেন। পরদিন ১২ ডিসেম্বর কাহালু থানায় একটি মামলাও দায়ের হয়।
প্রসঙ্গত, ডা. জিয়াউল হক মোল্লার বাবা আজিজুল হক মোল্লা বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯৪ সালে আজিজুল হকের মৃত্যুর পর ডা. জিয়াউল হক মোল্লাকে বিএনপি মনোনয়ন দিলে তিনি সংসদ সদস্য হন। পরে আরও ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এক এগারোর সময় তিনি বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে বেফাঁস মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
