কেরানীগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: দগ্ধ একজনের মৃত্যু

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৫৮ পিএম

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় চিকিৎসাধীন একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম উমা রানী চক্রবর্তী (৬০)। প্রথমে ঘটনাটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘটেছে জানালেও রাতে উমা রানীর ছেলে অভিযোগ করেন, তারই ছোট ভাই মাদকাসক্ত দেবা চক্রবর্তী মাদকের টাকা না পেয়ে সিলিন্ডারের গ্যাস ছেড়ে এরপর আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।

সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মৃত্যু হয় উমা রানীর। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, উমা রানীর শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

এর আগে সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কুন্ডা ইউনিয়নের কাউটাইল ঋষিপাড়া এলাকার একটি চারতলা বাড়ির নিচ তলায় গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।

এতে দগ্ধ হন উমা রানী (৬০), তার মেয়ে বিনা চক্রবর্তী (৪০), ছেলে দেবা চক্রবর্তী (২৮) ও নাতি পিনাক চক্রবর্তী (১৫)।

আর বিস্ফোরণে দেয়ালের ইটের আঘাতে আহত হন পথচারী ঝালমুড়ি বিক্রেতা স্বপন রাজবংশী (৫৫) ও প্রতিবেশী লিপি চক্রবর্তী (৩০)।

ঘটনার পর উমা রানীর নাতনি জ্যোতি দাস জানান, ৪ তলা বাড়িটি তাদের নিজেদের। নিচতলায় থাকেন ওমা রানী এবং তার ছেলে ও মেয়ের পরিবার। সকালে উমা রানি রান্নার জন্য রান্নাঘরে যান। সেখানে গিয়ে দিয়াশলাই জ্বালাতে বিকট বিস্ফোরণ হয়। আর বাসার দেয়াল কিছু অংশ ভেঙে পড়ে যায়। ঘটনার আচপেয়ে তারা দগ্ধদেরকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন।

তবে রাতে মৃত উমা রানীর ছেলে সঞ্জয় চক্রবর্তী মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং অভিযোগ করেন, তার ছোট ভাই দেবা চক্রবর্তী মাদকাসক্ত। প্রায়ই টাকার জন্য পরিবারের লোকজনকে মারধর করতো। এমনকি বাবা-মাকে মারধর করছে। সোমবার মাদকের টাকার জন্য বাড়ির লোকজনকে ঘরে আটকে রেখে গ্যাস সিলিন্ডারের চাবি খুলে দিয়ে এরপর আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দেবাসহ দগ্ধ হন তাদের মা, বোন ও সঞ্জয়ের ছেলে পিনাক।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. তরিকুল ইসলাম আরও জানান, দগ্ধ বিনা চক্রবর্তীর শরীরের ৮৫ শতাংশ, দেবা চক্রবর্তীর ১৬ ও পিনাক চক্রবর্তীর ২৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। পাশাপাশি তাদের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। তাদের সবার অবস্থায়ই আশঙ্কাজনক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত