প্রচারণায় নেমেই ‘অবরুদ্ধ’ স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সাইয়িদ

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:৩৪ পিএম

পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া আংশিক) আসনে প্রচারণায় নেমেই প্রতিপক্ষ নৌকা সমর্থকদের বিরুদ্ধে তাকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। আজ মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১টা থেকে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা সাঁথিয়া উপজেলার বোয়ালিয়া বাজারে ‘অবরুদ্ধ’ হয়ে আছেন। তাকে ঘিরে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হকের সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। 

ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পরিস্থিত স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আবু সাইয়িদের দাবি, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।   

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে আবু সাইয়িদ বাড়ি থেকে কয়েকটি গাড়ি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বেড় হন। তার সঙ্গী হন আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হকের ভাই এবং বেড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল বাতেন। তাদের গাড়ি বহরটি বেড়া সিএন্ডবি বাজার এলাকায় পৌঁছালে প্রথম বাধার মুখে পরেন তারা। নৌকা মার্কার স্লোগান দিয়ে একদল লোকজন গাড়ি বহরটিকে অবরুদ্ধ করে। সেখানে গাড়ি বহরে থাকা লোকজনকে চর থাপ্পর দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সেখান থেকে দুপুর ১ টার দিকে গাড়ি বহরটি সাঁথিয়ার বোয়ালিয়া বাজারে পৌঁছালে আবারও বাধার মুখে পরেন তারা। পরে আবু সাইয়িদ তার লোকজন নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে একটি দোকানে আশ্রয় নেন। সেখানেই তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ অভিযোগ করেন, ‘প্রচারণার শুরুতেই তাকে পদে পদে বাধা দেয়া হচ্ছে। সিএনবি মোড়ে গাড়িবহর আটকে নেতাকর্মীদের মারপিট করা হয়েছে। এতে আমার ৫ থেকে ৭ জন কর্মী আহত হয়েছেন। পরে বোয়ালিয়া বাজারে পৌঁছালে সেখানেও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে আমাকে। ঘটনাস্থলে বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা নিরব ভূমিকা পালন করছেন। এটা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ হতে পারে না।’

এ প্রসঙ্গে জানতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হকের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দেয়া হলে তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা পরিবেশ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। আপাতত এর বেশি কিছু বলার নেই।’

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়ার অধিকার কারও নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। প্রার্থীরা তাদের মতো করে প্রচারণা চালাতে পারবেন।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত