অন্তত ৪০ জন জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে গাজায় এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল ইসরায়েল, যা প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস। বরং ইসরায়েল আগে গাজায় হামলা চালানো বন্ধ করলেই বন্দি মুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনকামী সশস্ত্র সংগঠনটি।
এক প্রতিবেদনে যুদ্ধবিরতি আলোচনা আপাতত এখানেই থেমে গেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসরের মধ্যস্থতায় আরেকটি যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু হয়। বুধবার সেই আলোচনায় যোগ দেন খোদ হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়া।
এই আলোচনায় হামাসকে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে বলেছে নেতানিয়াহু সরকার। এর বিনিময়ে গাজা উপত্যকায় আবারও সাত দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। পাশাপাশি গাজায় আরও মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে বলেও জানিয়েছে ইসরাইল। তবে হামলা বন্ধ না করলে জিম্মি মুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে হামাস।
হানিয়ার মিডিয়া উপদেষ্টা তাহের আল-নোনো রয়টার্সকে বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে শেষ না করা এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের জন্য মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি না করা পর্যন্ত আরও ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তির বিষয়ে কোন প্রকার আলোচনা করতে ইচ্ছুক নয় হামাস।তাহের বলেন, ‘ইসরায়েল তার আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার সময় আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করার কথা বলতে পারি না। আগ্রাসন বন্ধের পরে জিম্মি সম্পর্কিত যে কোনও প্রস্তাব নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হবে।’
গেল নভেম্বরের বন্দি বিনিময়ের চুক্তিতে গাজায় যুদ্ধবিরতির পর হামাসের হাতে এখনও ১২০ জনের বেশি ইসরায়েলি বন্দি আছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের অতর্কিত হামলায় ১২০০ ইসরায়েলি নিহত হন। অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড নামের ওই অভিযানে ২৪০ জন ইসরায়েলিকে বন্দি করে হামাস। এর জবাবে গাজায় ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় ২০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১৪ হাজার নারী ও শিশু।
