বড়দিনের পর, ডিসেম্বরের ২৭ তারিখ থেকে যে টি-টোয়েন্টি সিরিজটা শুরু হতে যাচ্ছে সেটাতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দেবে বাংলাদেশ! সম্ভাবনার সূত্র এমনটাই বলছে। এই বছর ইংল্যান্ড এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর শেষ ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ, সেই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে পরবর্তী সময়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষকে। ইংল্যান্ড, আফগানিস্তানের পর এবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ওয়ানডে সিরিজে শেষ ম্যাচে জয়, তাহলে পরের টি-টোয়েন্টি সিরিজ তো বাংলাদেশেরই জেতার কথা।
এসব সম্ভাবনার অঙ্ক অবশ্য বাস্তবের জমিনে খুব একটা কাজে লাগে না। তবে অনেক সময় তুকতাক লেগেও যায়। বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত যেমন নিউজিল্যান্ডকে নেপিয়ারে ৯ উইকেটে হারিয়ে দেওয়ার পর বলেছেন, ‘টি-টোয়েন্টি সিরিজে এই জয় আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস জোগাবে। যদিও টি-টোয়েন্টি ভিন্ন একটা সংস্করণ। আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা করব।’
পেসারদের হাত ধরেই এলো বড় জয়। বলের হিসেবে ২০৯ বল বাকি রেখে জেতাটা তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়। এই কীর্তিতে শান্ত একক কাউকে কৃতিত্ব দিতে চান না, ‘আমি নির্দিষ্ট কাউকে কৃতিত্ব দিতে চাই না। প্রত্যেকটা বোলারই দায়িত্ব নিয়ে বল করেছে। আমরা যে পরিকল্পনা দিয়েছিলাম সেই অনুযায়ী বল করেছে।’ বোলারদের বোলিং কৌশল নিয়ে জানান, ‘কৌশলগতভাবে বোলিং চেঞ্জ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কারণ সকালে পেস বোলারদের অনেক সাহায্য ছিল। আমি ওটাই করার চেষ্টা করেছি যে কত লম্বা সময় পেস বোলিং চালু রাখতে পারি।’
‘আজ উইকেটের কন্ডিশন ভিন্ন ছিল। পেস বোলারদের সাহায্য ছিল, একটু আর্দ্রতাও ছিল। ওটাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। টস জিতে ভালোই হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ছিল কতক্ষণ এক জায়গায় বল করতে পারে, সেটা করতে পেরেছে দেখে ওদের আমরা অলআউট করেছি।’ তবে সব কিছুর পর নিউজিল্যান্ড যে ১০০ রানের নিচে অলআউট হয়ে যাবে সেটা একদমই অকল্পনীয় ছিল শান্তর কাছে, ‘এরকম তো চিন্তা কখনই করিনি (৯৮ রানে ওদের অলআউট করার)। কিন্তু আমরা যে জিনিস এই পুরো সিরিজে করেছি আমাদের প্রক্রিয়া কী। লম্বা সময় যখন ভালো বল করেছি, উইকেট এমনিই পড়েছে। এমন কিছু ছিল না যে ১০০ বা ৯৮ রানে অলআউট করে দেব। ভালো জায়গায় লম্বা সময় বল করার পরিকল্পনা ছিল, ওটাই ওরা করেছে। এজন্য খুবই গর্ব বোধ করছি যে ওরা আগের দুই ম্যাচ হারার পর ফিরে আসতে পেরেছে।’
শান্ত মনে করেন, সিরিজের প্রথম ওয়ানডেটায় বৃষ্টির বিঘœ না ঘটলে সিরিজটা বাংলাদেশ জিততেই পারত, ‘আমি সিরিজ জিততে এসেছিলাম, এটা সত্যিকার অর্থে সম্ভব মনে করেই বলেছিলাম। আমরা প্রথম ম্যাচ দুর্ভাগা ছিলাম বৃষ্টির কারণে আমাদের বোলিং অপশনগুলো শেষ হয়ে গিয়েছিল। অবশ্যই খুশি জিততে পেরেছি, সিরিজ জিততে পারলে ভালো লাগত।’
দেশে নিউজিল্যান্ডকে টেস্টে হারানো, নিউজিল্যান্ডে এসে তাদের ওয়ানডেতে হারানো। অধিনায়ক হিসেবে শান্ত কতটা পরিণত হয়ে উঠছেন অল্পদিনেই সেটা তার সাফল্যই বলে দিচ্ছে। এই বছর তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৯৯২ রান হয়েছে শান্তর, আর ৮ রান হলেই হবে এক হাজার রান। তবে এখনই নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে কোনো আত্মতৃপ্তি নেই শান্তর কণ্ঠে, ‘ক্যাপ্টেনসি নিয়ে কোনো মূল্যায়ন করতে চাই না। শিখছি। এখানে আমি আলাদা কেউ না। প্রত্যেকটা টিম জিততে চায়, ওদের ওয়ার্ক এথিক ভালো। খেলা শুরু হওয়ার আগে আমাদের কাজ কী, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’
অন্যদিকে কিউইদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আসা অধিনায়ক টম ল্যাথাম মেনে নিয়েছেন নেপিয়ারে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব, ‘আমরা স্রেফ উড়ে গেছি। ইনিংসের শুরুর দিকে আমরা যথেষ্ট চাপ সামলাতে পারিনি। আমরা কেবল একের পর এক উইকেট হারিয়ে গেছি।’। বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ে ল্যাথামের মন্তব্য, ‘পিচে ভালো গতি ছিল। বল সুইং করছিল। আবার বল নিয়মিত লাফিয়েও উঠছিল। ফলে আমাদের জন্য এটা কঠিন হয়ে পড়েছিল।’
বড়দিনের পর ২৭ ডিসেম্বর এই নেপিয়ারেই নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ৩ টি-টোয়েন্টির সিরিজের প্রথমটি খেলতে নামবে বাংলাদেশ। পরের দুটো টেস্ট জয়ের স্মৃতিমাখা মাউন্ট মঙ্গানুইতে, ডিসেম্বরের ২৯ ও ৩১ তারিখে।
