ভিডিওকলে নগ্ন অবস্থার স্ক্রিন রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেইল করতেন তারা

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:১৪ পিএম

ভিডিও স্টপ কারদিয়া...আপ জেয়সি পেমেন্ট কারগে ডিলিট প্রুফ ডিলিট বানাকার সেন্ট কিয়া যায়ে গা...মরনিংমে যিতনি জালদি হোসাকে পেমেন্ট কারনা...। এগুলো কোনো সিনেমার ডায়লগ নয়, ইন্ডিয়ান হানি ট্রাপে পড়ে চক্রের সদস্য ও ভুক্তভোগীর কথোপকথন। পুলিশ বলছে, ইন্ডিয়ান হানি ট্রাপ চক্র বাংলাদেশি অবস্থাসম্পন্ন ছেলেদের ইন্ডিয়ান মেয়ে দিয়ে ফাঁদ তৈরি করে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে বন্ধুত্ব তৈরি করে ভিডিও কলে ফোনে নগ্ন অবস্থার স্ক্রিন রেকর্ডে ধারন করে। পরে তা ভিকটিমকে দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। আর এই টাকা উত্তলনের জন্য বাংলাদেশি এজেন্ট নিয়োগ দেয়।

ইন্ডিয়ান হানি ট্রাপ চক্রে জড়িত অভিযোগে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তি এলাকা থেকে গত ২০ ডিসেম্বর দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) ফিনান্সিয়াল এন্ড সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. টিপু সুলতান (২৭) এবং মো. মোসলেম রানা (২৮)। তারা দুইজনই বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়ালেখা করে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবির প্রধান হারুন অর রশীদ বিষয়টি আজ রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী বা ব্যক্তিদের টার্গেট করে তাদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় তাদের অজান্তে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অশ্লীল, ন্যুড ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানি নাগরিকদের সমন্বিত চক্রের মাস্টার মাইন্ড হচ্ছে শাকিল, যিনি একজন ভারতীয় নাগরিক। সে বাংলাদেশে টিপু ও পাকিস্তানে পারভেজ নামে দুজনের মাধ্যমে ব্ল্যাক মেইলের টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভারতে চলে যাচ্ছে। টিপু ও পারভেজ টাকার কমিশন হিসেবে ২৫ শতাংশ করে পায়।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়ে অনেকে অনেক টাকা খুইয়েছেন। কারণ তার মানসম্মানের ভয়ে কোন অভিযোগ করতে চান না। পরে আমরা কয়েকজনের কাছ থেকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রের দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। গ্রেপ্তারকৃতরা স্বল্প সময়ে অধিক উপার্জনের আশায় এই প্রতারণার কাজে যুক্ত হয়ে পড়ে। রানা এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। তার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলের টাকা আদায় ও পরবর্তীতে তা ভারতীয় এজেন্টের কাছে পাঠিয়ে দিত। গ্রেপ্তারকৃতরা শিকার করেছেন জড়িত থাকার বিষয়ে। তারা এভাবে অনেকের সঙ্গে এই ব্ল্যাকমেইলিং করেছে। তারা এ চক্রের অন্যদের গ্রেপ্তারে কাজ করছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বা ভিডিও কলে কথা বলার সময় আমাদের সাবধান হতে হবে উল্লেখ করে এ কর্মকর্তা আরও বলেন, যারা এ ধরনের ব্ল্যাকমেইরিংয়ের শিকার হবেন বা পরবেন তারা পুলিশে বা সাইবার ক্রাইম বিভাগে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত