দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ আসনের হিজলা উপজেলায় ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথের নির্বাচনী অফিসে হামলা ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার দিনগত রাত ও রবিবার ভোরে হিজলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের টেকেরহাট বাজার ও ধূলখোলা ইউনিয়নের আলীগঞ্জ বাজারসংলগ্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, আজ রবিবার সকালে ধূলখোলা ইউনিয়নের আলীগঞ্জ বাজারে পঙ্কজ নাথে অনুসারীরা লিফলেট বিতরণ করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণার কাজ চালাচ্ছিলেন। এ সময় ঈগল প্রতীকের কর্মীদের ওপর আকস্মিক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। সেই সঙ্গে আলিগঞ্জ বাজার মন্দির কমিটির সভাপতি রাম প্রসাদের বাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
আলিগঞ্জ বাজার মন্দির কমিটির সভাপতি রাম প্রসাদ জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাজারে আমরা ঈগল প্রতীকের প্রচারণার কাজ শুরু করি। তখন আকস্মিক ৪০-৫০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। সে সময় মামুন নামে ঈগল প্রতীকের এক কর্মী গুরুতর আহত হন।
তিনি আরও বলেন, আজ থেকে ১৬ দিন আগে আমার বাড়িতে হামলা হয়েছে। ওই সময় ভয় পেয়ে আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার পরের দিনই বাবা মৃত্যুবরণ করেন। আজ বাবার আত্মার শান্তির জন্য শ্রাদ্ধের আয়োজন ছিল বাড়িতে। কিন্তু তার আগে ৫০-৬০ জন মিলে বাড়িতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় বাড়িতে উপস্থিত নারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেছে। আর এখন তো বাজারেও যেতে পারছি না হামলার ভয়ে।
পঙ্কজ নাথের অনুসারীদের দাবি, ভোটার না হয়েও জামাল ঢালী, রবি ঢালী, সালাউদ্দিন, নিজাম, রফিকসহ একটা পক্ষ ধূলখোলায় দীর্ঘদিন ধরে শাম্মী আহমেদের অনুসারী বলে প্রভাব দেখিয়ে আসছেন এবং আজ তারা এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন।
অপরদিকে আহত অহিদ সরদার ও তার স্বজনরা জানান, গত শনিবার রাতে আকস্মিক সন্ত্রাসীরা বড়জালিয়া ইউনিয়নের টেকেরহাট বাজারে ঈগল প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে হামলা চালায়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন অহিদ।
ঈগল প্রতীকের প্রার্থী পঙ্কজ নাথ বলেন, হামলার ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আগে কর্মীদের সুস্থ করার কাজটি করছি। সেই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনসহ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়ে রেখেছি। এখন কারও বিরুদ্ধে কথা বলতে চাই না। তবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, কখন যে কার ওপর হামলা হবে বলা যাচ্ছে না।
এদিকে গতরাতের ঘটনায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আর আজকে ধূলখোলার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তবে হামলার খবর আমার জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবাইর আহমেদ।
