স্থপতি মোবাশ্বের ছিলেন দেশমাতৃকার নীরব সেবক

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:২৯ এএম

‘মোবাশ্বের হোসেন ছিলেন দেশমাতৃকার নীরব সেবক। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের সময় তিনি বড় অঙ্কের অর্থ দিয়েছিলেন কিন্তু তা জীবিতকালে প্রকাশ করতে দেননি।’ গতকাল সোমবার সকালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে স্থপতি মুক্তিযোদ্ধা মোবাশ্বের হোসেনের স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

গতকাল মোবাশ্বের হোসেনের পদরেখা অনুসরণ করেই তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে সংগঠন গেরিলা ১৯৭১। নতুন প্রজন্মের হাতে অতিথিদের জাতীয় পতাকার প্রতীক তুলে দেওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের কার্যক্রম। শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। তারা শোনান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গেরিলা ১৯৭১ এর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মাহফুজা খানম, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন, মাসরুর-উল-হক সিদ্দিকী, বীরউত্তম; বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসান মাসুদ, মেজর তৈমুর রেজা টুলু, মুরাদ হাসান, হাবিবুল্লাহ আলম, বীরপ্রতীক-সহ অন্যান্য বিশিষ্টজন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

আলোচনাপর্বে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ‘মোবাশ্বের হোসেন ছিলেন দেশমাতৃকার নীরব সেবক।’ স্থপতি তানজিম হাসান যুদ্ধকে মানবতার সবচেয়ে বড় হুমকি স্বীকার করে বলেন, ‘যুদ্ধ কখনো কখনো অনিবার্য হয়ে ওঠে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল তেমন একটি যুদ্ধ।’ 

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন বলেন, শিক্ষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের গাইড করে আলোর পথে নিয়ে আসা। কথা না কাজেও ধারণ করতে হবে মুক্তিযুদ্ধকে।

অনুষ্ঠানে আলোচনার পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের প্রথম অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করেন ইফতেখার আনোয়ার ও তার দল। কোন আলোতে প্রাণের প্রদীপ সংগীতের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন তামান্না রহমান। মোবাশ্বের হোসেনের প্রিয় কবিতা ‘আমার পরিচয়’ আবৃত্তি করেন শিমুল মুস্তাফা। মোবাশ্বের হোসেনের পিতৃপুরুষের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তারুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান ও গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন গেরিলা ১৯৭১ এর সমন্বয়ক এম এম কোরেশী, অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন মাহফুজা মাহবুব।

তরুণ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ছিলেন ’৭১-এর রণাঙ্গনের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধের শেষে দেশগঠনে আত্মনিয়োগ করেন। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে গেরিলা ১৯৭১ সংগঠন গড়ে তোলেন। মুক্তিযোদ্ধা ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সেতুবন্ধনের প্লাটফরম হিসেবে কাজ করে চলেছে গেরিলা ১৯৭১। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত