মেহেরপুরে আমনে কারেন্ট পোকা, ২০০ কোটি ক্ষতির শঙ্কা

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:১৬ এএম

মেহেরপুরে চলতি মৌসুমে আমন ধানে কারেন্ট পোকার (বাদামি গাছফড়িং) আক্রমণে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদন ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। কৃষকরা বলছেন, একদিকে তেল, সার, কীটনাশক ও উৎপাদন মজুরি বৃদ্ধিতে এমনিতেই চাষাবাদ নিয়ে তারা বেকায়দায়। তার ওপর ধানে আকস্মিক কারেন্ট পোকার আক্রমণে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষক এবং কৃষি বিভাগের হিসেব মতে, এবার কারেন্ট পোকার আক্রমণে মেহেরপুরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ধান কম উৎপাদন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরেজমিন জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এ সত্যতা পাওয়া গেছে। সদর উপজেলার শোলমারী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত চাষি জামিরুল আব্বাস বলেন, ‘কারেন্ট পোকার আক্রমণের কারণে প্রথমে ধান গাছ পুরো শুকিয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। পরে ধানের শীষে দানা দেখা দিলে সেই দানা চালের পরিবর্তে শুকিয়ে চিটে হয়ে যাচ্ছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, চলিত মৌসুমে মেহেরপুরে আমন চাষ হয়েছে ২৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮৫ হাজার টন। প্রতি টন চালের দাম বর্তমান বাজারমূল্য ও সরকারি দাম অনুযায়ী ৪৬ হাজার ২০০ টাকা। সে হিসেবে চলিত মৌসুমে জেলায় ৩৯২ কোটি ৭০ লাখ টাকার চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু অর্ধেকের বেশি জমির ধান কারেন্ট পোকায় নষ্ট করে ফেলেছে। তাই প্রায় ২০০ কোটি টাকার চাল উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, ‘কৃষি বিভাগ মাঠে মাঠে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। এবার পোকার কারণে আমন ধানের কিছুটা ক্ষতি হলেও কৃষি বিভাগ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নানাভাবে কৃষকদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।’ কৃষকের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিপর্যয়ের চরম মাত্রায় সবাই কৃষি বিভাগকে চায়। তখন সবার কাছে কৃষি বিভাগের যাওয়া হয়তো সম্ভব হয়ে ওঠে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত