দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

একই আসনে মুখোমুখি দুই ভাই

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:২৬ পিএম

নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে জমে উঠছে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। ঠাকুরগাঁওয়ের ৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের দিকে এখন সবার নজর। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে নিজেদের জয় নিশ্চিত করতে আপন চাচাতো দুই ভাই নেমে পড়েছেন ভোট যুদ্ধে। 

তারা হলেন, এ আসনে সাতবারের নির্বাচিত এমপি দবিরুল ইসলামের বড় ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মাজহারুল ইসলাম সুজন। এখানে স্বতন্ত্র হয়ে সুজনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তার আপন চাচাতো ভাই বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করা ও উপজেলা যুবলীগ নেতা সম্পাদক আলী আসলাম জুয়েল।

আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলেও স্থানীয় ভোটারদের মতে মূলত নৌকার প্রার্থীর সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের। 

ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে জুয়েল-সুজন লিপ্ত হচ্ছেন বাকবিতণ্ডায়। একজন আরেক জনের বিরুদ্ধে হুমকি-ধমকি ও নানা সমালোচনা মূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। এরইমধ্যে দেখা যায়, হরিপুর উপজেলার নির্বাচনী এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আলী আসলাম জুয়েল মাজহারুল ইসলাম সুজনের সমর্থক নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলছেন,  ‘এখনও সময় আছে ট্রাকের উপরে চড়েন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে ট্রাকের নিচে কিন্তু চাকা আছে চাকার নিচে পিষে যাবেন’। হরিপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম পুষ্পকে উদ্দেশ্য করে আলী আসলাম জুয়েল বলেন, ‘জুয়েল কিন্তু হাই ভোল্টেজ! হরিপুর থেকে ঠাকুরগাঁও যেতে পারবেন না, সমস্যা আছে, বালিয়াডাঙ্গী উঠতে পারবেন না, পুষ্পা ভাই আমার নাম শুনলে তিন গ্লাস পানি খায়’। আমাকে আপনারা অনেকই চেনেন না। আমি ইচ্ছা করলে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, ঢাকা যেকোনো কিছু করতে পারব’।
 
এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হলে ভাইরাল হয়। এর প্রতিউত্তরও দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম পুষ্প বলেছেন।

এই আসনের নির্বাচনী এলাকায় এই দুই প্রার্থী মুখোমুখি অবস্থান করায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এ ছাড়াও এই আসনে সুজন-জুয়েলের ফুফাতো বোন জাতীয় পার্টির প্রার্থী জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি নুরুন নাহার বেগম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী রিম্পা আক্তার (ডাব প্রতীক) ও সোফা প্রতীকে মো: আব্দুল কাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
 
সীমান্ত ঘেঁষা বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর উপজেলা ও রাণীশংকৈল উপজেলার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-২ আসন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৫ জন। জেলায় ৩টি আসন হলেও সাধারণ মানুষজন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সাথে তাকিয়ে রয়েছেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের দিকে। 

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন উপহার দিতে সব ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত