আওয়ামী লীগ চায় ধারাবাহিকতা জাতীয় পার্টি চায় পুনরুদ্ধার

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:১৪ এএম

২০১৪ সালে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালমা ইসলাম এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে সালমা ইসলামকে পরাজিত করে এমপি হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সালমান এফ রহমান। সে হিসেবে এই আসনের এমপির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগের নৌকা মনোনীত প্রার্থী সালমান এফ রহমান। অন্যদিকে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন সালমা ইসলাম।

ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে নানা কারণে সবচেয়ে ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত এই ঢাকা-১ আসনটি। এই আসনের এমপি হওয়া যেন সোনার হরিণ। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করছেন এই আসনের ভোটাররা। যদিও আসনটিতে সাতজন প্রার্থী, কিন্তু মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মনোনীত দুই প্রার্থীর সঙ্গে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই দোহার ও নবাবগঞ্জের বিভিন্ন আনাচে-কানাচে চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী কর্মী-সমর্থকরা। সাধারণ ভোটাররাও মনে করছেন, যদি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে এই আসনে নৌকা ও লাঙ্গল মার্কার মধ্যেই ভোটের মাঠে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। তবে শেষ পর্যন্ত ফলাফল কী হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষারত দোহার ও নবাবগঞ্জের এলাকাবাসীসহ ঢাকা জেলার অন্যসব আসনের শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কমরেড করম আলী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবদুল হাকিম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সামসুজ্জামান চৌধুরী, গণফ্রন্টের শেখ মো. আলী ও তৃণমূল বিএনপির মুফিদ খান ।

এই আসনে দুই হেভিওয়েটসম্পন্ন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। চালিয়ে যাচ্ছেন জনসংযোগ, উঠান বৈঠক আর সমাবেশ। কে কার থেকে বেশি কৌশল প্রয়োগ করে নিজের অবস্থান জোরদার করবেন, এ নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। প্রার্থীদের মধ্যে কার পাল্লা ভারী, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে স্থানীয় বাজারগুলোর চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন জায়গায়।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত শিল্প ও উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা জননেতা সালমান এফ রহমান এমপি হওয়ার পর থেকেই ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে দোহার ও নবাবগঞ্জ ঢাকা-১ আসনে। তিনি বড় বড় প্রকল্পের অনুমোদন, পদ্মায় বাঁধ নির্মাণ, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তিনি। এই আসনে জনগণের আস্থাভাজন ও ভালোবাসার অপর নাম সালমান এফ রহমান। নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন।’

এ বিষয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল বলেই দেশে বড় বড় অবকাঠামোর উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। এখন সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ আছে, যা অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই। এ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। আমি বিগত দিনে আমার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপকভাবে উন্নয়নে কাজ করেছি। তাই জনগণ আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে আমাকে নির্বাচিত করবেন। সবার দাবি এলাকায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া, সেটা খুব দ্রুতই শুরু হয়ে যাবে।’

অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালমা ইসলামও খুব সহজে ভোটের মাঠে ছাড় দেবেন না। কারণ তিনিও এর আগে এ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। তাই তারও জানা রয়েছে সব সমীকরণ। তিনিও লড়ে যাবেন ভোটের মাঠে তার হারিয়ে যাওয়া এই আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, ‘অতীতেও আমি এই দুই উপজেলার উন্নয়নে কাজ করেছি। যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে আমি নির্বাচিত হব ইনশাআল্লাহ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত