নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফিকের কর্মীদের হুমকি ও নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে জুনাইদ আহমেদ পলকের নৌকা মার্কার ১১ কর্মীকে কারণ দর্শানোর দুটি নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি।
শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) নাটোর-৩ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান এবং পাবনার সহকারী জজ মোস্তফা কামাল এ দুটি শোকজ নোটিশ ইস্যু করেন। নোটিশে সশরীরে আগামী ৩০ ডিসেম্বর (শনিবার) বিকেল ৩টার মধ্যে অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযুক্তরা হলেন সিংড়া উপজেলার শোয়াইড় গ্রামের মো. মুকুল হোসেন, মো. কাশেম আলী, মো. জামাল হোসেন জাম্বু, মো. মজনু প্রাং, মো. শরিফ প্রাং, মো.শাহীন হোসেন, মকবুল হোসেন, মো. মুন্না, মো.সেতু সরদার, মো.আরাফাত ও মো.রাশিদুল।
শোকজে বলা হয়, ‘গত ২৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে তিনটায় ১২নং রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের শোয়াইড় বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঈগল মার্কার মাইকিং কর্মী মো. মিন্টু আলী মাইকিং পরিচালনা করার সময় আপনারা লাঠি-শোঠা নিয়ে উক্ত ঈগল মার্কার মাইকিং কর্মীর উপর হামলার উদ্দেশ্যে চড়াও হন এবং তাৎক্ষণিক মাইকিং বন্ধ না করলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। ঈগল মার্কার মাইকিং কর্মী প্রাণের ভয়ে তাৎক্ষণিক মাইকিং বন্ধ করে দেয়। এসময় আপনারা নৌকার সমর্থকরা ঈগল মার্কার মাইকিং কর্মীর ভ্যানে থাকা পোস্টারসহ বাজারে টাঙানো সমস্ত পোস্টার টেনে ছিঁড়ে ফেলেন এবং দ্বিতীয়বার মাইকিং করতে আসলে কোনোরূপ সুযোগ না দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া যায়।’
অপর আরেকটি শোকজে বলা হয়, ‘গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে ৮নং শেরকোল ইউনিয়নের শেরকোল বাজারে ইউনিয়ন পরিষদের পাশে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঈগল মার্কার কর্মী মো. শামসুল ইসলাম, মো. নাজির উদ্দিন, মো. আসাদুজ্জামানসহ আরও অনেক নেতাকর্মী একটি সামিয়ানা তৈরি করেন। এ সামিয়ানা আপনারা নৌকার কর্মীসহ (উল্লিখিত ৮ জন) অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জন ভেঙ্গে দিয়েছেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঈগল মার্কার কর্মী যারা সামিয়ানা স্থাপন করেছিল তাদেরকে ভয়ভীতি, হুমকি প্রদর্শন করেছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। আপনাদের উক্ত কার্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৭৭ বিধি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ৬(১) (ক), ৭(২) ও ১১(৬) বিধির লঙ্ঘন করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে।’
‘এ অবস্থায় আইন ভঙ্গের কারণে কেন আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে মর্মে আগামী (৩০ ডিসেম্বর) শনিবার বেলা ৩টায় সশরীরে অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।’
প্রসঙ্গত , বৃহস্পতিবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি বরাবর নৌকার কর্মীদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ দায়ের করেন স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রধান এজেন্ট কামরুল হাসান। সরেজমিনে তদন্তের পর নৌকার কর্মীদের বিরুদ্ধে এসব শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়।
