নির্বাচনী এলাকা থেকে পুলিশ যেকোনো অভিযোগ পেলে সেটা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি-অপারেশন) আনোয়ার হোসেন। এছাড়া নাশকতাকারীদের ধরতে পুলিশ পুরস্কারও ঘোষণা করেছে। কাউকে ছাড়া দেওয়া হচ্ছে না। কোনো রাজনীতিবিদদেরও অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে না।
আজ শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নাশকতার ঘটনা অব্যাহত আছে। পুলিশ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশের কাছে সকল প্রার্থী সমান। প্রচার প্রচারণার ক্ষেত্রে সকল প্রার্থী যেন সমান সুযোগ পান, সেটা নির্দেশনা দেওয়া আছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি পক্ষ রেলে আগুনসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। রেল পুলিশের মাধ্যমে রেলের নিরাপত্তায় বিভিন্ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইপি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
তিনি বলেন, যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের রাজনৈতিক কারণে নয়। রাজনীতি করা অপরাধ নয়। কেউ যদি রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যানবাহনে আগুন দেয়, ভাঙচুর করে, যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে তাহলে নির্দিষ্ট মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাদের কারও কারও হয়তো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। সেটা না দেখে নাশকতায় সম্পৃক্ত কিনা সেটা বিবেচনায় নিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
বিএনপি জামায়াতসহ বিরোধী পক্ষের ২৬ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই তথ্য সঠিক কিনা জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, পরোয়ানা তামিলসহ বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগে সারা দেশে গড়ে ১ হাজার ৬০০ জনের মতো গ্রেপ্তার হয়। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের পদধারী সংখ্যা কত সেটা আমাদের কাছে হিসাব নেই। সারা দেশ থেকে তথ্য নিয়ে সে হিসাব তৈরির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কেউ যদি ফৌজদারি অপরাধে সম্পৃক্ত হলে শুধু পুলিশ শুধু তাদেরই গ্রেপ্তার করছে।
নির্বাচন বিরোধী লিফলেট বিতরণেও বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ ভোট কেন্দ্রে যাবে কিনা? বা ভোট না দেওয়া না দেওয়ার অধিকার ভোটারের আছে। কিন্তু ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সম্পর্কে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। কোন কোন দুর্গম এলাকার কেন্দ্রও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। সেগুলোর বিষয়েও পুলিশ বাড়তি ফোর্স দিয়ে কাজ করছে। পুলিশ অবাধ শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বাত্মক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
বিভিন্ন এলাকায় বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে আমাদের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন ও বহন নিষিদ্ধ করে একটি পরিপত্র জারি হয়েছে। নির্বাচনকালে কেউ বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন বা বহন করতে পারবে না। আমাদের কাছে নির্দিষ্ট এলাকায় বৈধ অস্ত্র প্রদর্শনের ২টি অভিযোগ এসেছে। আমরা তদন্ত করে দেখেছি সেগুলো ছিল খেলনা অস্ত্র।
নির্বাচন কেন্দ্রিক মারামারি ও দাঙ্গা হাঙ্গামা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেকোনো ঘটনার পরই মামলা হচ্ছে। পুলিশ ওই সব ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কোন ধরনের ছাড় দিচ্ছে না। পুলিশ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষভাব দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশের কোন কর্মকর্তা নিরপেক্ষ হারানোর অভিযোগ আসলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বদলি বা প্রত্যাহার করছে। এরপরও ওই কর্মকর্তার বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা হারানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোটকেন্দ্রে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী এরাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা কোন অভিযোগ পেলে সেগুলোর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। পুলিশ তাদের সহযোগিতা করছে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারগণ যেভাবে নিরাপত্তা নির্দেশনা দেবেন পুলিশ সেভাবে কাজ করবে।
ডিআইজি অপারেশন বলেন, নির্বাচনের সময়ে সারা দেশে ১ লাখ ৮৯ হাজার পুলিশ সদস্য কর্মরত থাকছেন। নির্বাচনের দায়িত্বে, মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং টিম, ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গেও ডিউটিতে থাকেন। এমনকি ওই দিন যিনি থানার সিসি লেখেন, উনিও নির্বাচনী দায়িত্বে।
দাগি আসামি ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরা জামিনে বেরিয়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, কোন আসামি জামিনে বেরিয়ে আসলে সে নতুন করে অপরাধে না জড়ালে পুলিশ গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই। জামিন পাওয়া আসামিদের বিষয়ে পুলিশের বিশেষ নজরদারি অব্যাহত আছে। তারা কোন অপরাধ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে, থার্টিফার্স্টের নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, থার্টিফার্স্ট নিরাপত্তার বিষয়ে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সভা হয়েছে। আইজিপিও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। থার্টিফাস্ট নাইটে আতশবাজি ফুটানো ও ফানুস উড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উন্মুক্তস্থানে কোন অনুষ্ঠান করা যাবে না। এ ছাড়া গুলশান, বনানী ও ৩০০ ফিটসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, এআইজি এনামুল হক সাগর ও পুলিশ সদর দপ্তরের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা একেএম কামরুল আহছান।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ৮৯টি মামলায় ১ হাজার ১১০ জনকে আসামি ও ১৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় আহত হয়েছেন ১২৫জন। নির্বাচনী ১০টি ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪টি।
