ইউরোপীয় দেশ ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান শহর ভেনিসে বড় পর্যটক দল ও লাউডস্পিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শহরটিতে অতিরিক্ত পর্যটকের প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এক বিবৃতিতে নতুন নিয়ম জুন থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে ভেনিস শহর কর্তৃপক্ষ। রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনিসে ঘুরতে আসা কোনো পর্যটক দলে ২৫ জনের বেশি পর্যটক থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া লাউড স্পিকারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে বলা হয়, এগুলো ব্যবহারের কারণে ‘বিভ্রান্তি ও ঝামেলা’ তৈরি হয়।
মূলত ভেনিসে পর্যটকের চাপ কমিয়ে নগরটিকে সুরক্ষিত রাখতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ইউরোপের অন্যতম দর্শনীয় ও পর্যটকবহুল স্থান হল ভেনিস। অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ শহরটিতে জরুরি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে এক দিনের জন্য (রাতে না থাকা) ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের কাছ থেকে প্রবেশ ফি বাবদ পাঁচ ইউরো করে আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভেনিস কর্তৃপক্ষ।
শহরটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এলিসাবেত্তা পেসচে বলেন, ঐতিহাসিক এ এলাকায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের ব্যবস্থাপনা আরও ভালো করার লক্ষ্যে নতুন নীতিমালাগুলো চালু করা হচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুতেই ভেনিসকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় যুক্ত করা উচিত বলে জানিয়েছিল ইউনেস্কো। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত পর্যটকের কারণে শহরটিতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে।
ভেনিস নগরের আয়তন মাত্র ৭ দশমিক ৬ বর্গকিলোমিটার। ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুসারে, ২০১৯ সালে ভেনিসে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ পর্যটক গিয়েছিলেন। আগামী কয়েক বছরে নগরটিতে দর্শনার্থীদের সংখ্যা করোনা মহামারি–পূর্ববর্তী সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২১ সালে জুদেক্কা খাল হয়ে ভেনিসে বড় জাহাজের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। একটি পোতাশ্রয়ে একটি জাহাজ দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সমালোচকদের মতে, এসব জাহাজ দূষণ তৈরি করছে। এতে ভেনিসের ভিত্তি ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। এমনিতেই নিয়মিত বন্যার কবলে পড়ে ভেনিস।
