কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক

ভোট বর্জনকারীদের চাপ থাকার শঙ্কা জানালেন সিইসি

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:১৫ এএম

ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা নির্বাচনের বিভিন্ন দিক জানতে চেয়েছেন নির্বাচন কমিশনের কাছে। এর মধ্যে ভোটারদের ওপর চাপ প্রয়োগ, ফলাফল, ভোটগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয় ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে কূটনীতিকদের নির্বাচনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, বিদেশি কূটনীতিকরা জানতে চেয়েছেন নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার কোনো চাপ আছে কি না। তিনি বলেন, কূটনীতিকদের তারা জানিয়েছেন, এমন কোনো চাপ তাদের বা সরকারের দিক থেকে নেই। বরং যারা ভোট বর্জন করেছে তাদের দিক থেকে একটি চাপ তৈরি হতে পারে, যেন ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে না যান।

সিইসি বলেন, ‘তাদের বুঝিয়েছি আমাদের থেকে চাপ সৃষ্টির কোনো কারণই নেই। তবে এটা আমাদের দায়িত্বের অংশ। আমরা যখন নির্বাচন করি, আমরা ভোটার সাধারণের কাছে আবেদন রাখি, আপনারা ভোটকেন্দ্রে এসে অবাধে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সেটা চাপ নয়, এটা অ্যাওয়ারনেস।’

তিনি বলেন, ‘কূটনীতিকদের আমরা বলেছি চাপের কথা যদি আপনারা বলেন, একটা চাপ অন্যদিক থেকে হতে পারে। একটা রাজনৈতিক দল (বিএনপি), তারা নির্বাচন বর্জন করেছে এবং বর্জনটা যদি বর্জনই থাকে, ওখান থেকে কিন্তু ভোটারদের বলা হয় আপনারা যাবেনই না, তাহলে পরে একটা চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এটা আমরা তাদের ব্যাখ্যা করেছি।’

সিইসি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় কূটনীতিকরা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এসেছেন। আমাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। তারা যে মত দিয়েছেন তা হলো আগামী নির্বাচনটা যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ হবে। এই জিনিসটার ওপর তারা জোর দিতে চান। আমরাও সেটাই চাই। আজকেও আমরা যে সভাটির আয়োজন করেছিলাম, সেখানে অতি সংক্ষেপে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি। এখন পর্যন্ত কোন অবস্থানে আমরা আছি, তারা শুনেছেন।’

নির্বাচন ঘিয়ে কী পরিমাণ অভিযোগ এসেছে এ বিষয়ে কূটনীতিকরা জানতে চেয়েছেন বলে উল্লেখ করে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা তাদের বুঝিয়েছি অভিযোগ বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। অসংখ্য অভিযোগ হতে পারে। ছোটখাটো যেগুলো উপেক্ষণীয়। কেউ কারও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলল। উল্লেখযোগ্য যে অভিযোগ তার স্টেটমেন্ট আমাদের কাছে ছিল। আমরা প্রায় ৬০০-এর মতো অভিযোগ পেয়েছি। তার মধ্যে ৪০০-এর মতো অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

সিইসি বলেন, ‘তারা ফলাফলের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। তাদের জানিয়েছি, আমরা একটা স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ করেছি। প্রতিটি কেন্দ্রের পোলিং চলাকালে দুই ঘণ্টা পরপর তথ্য আপলোড করা হবে। এসব তথ্য যেকোনো নাগরিক দেশে বা বিদেশে পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে জানতে পারবেন। অ্যাপসটার উদ্দেশ্য হচ্ছে সচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্যতার যে অবস্থানটা, সেটা আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করা।’

মাঠে কত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রায় ৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, তারা ভোটগ্রহণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন। আরও এক লাখ স্ট্যান্ডবাই থাকবেন। মোট ৯ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রস্তুত আছেন । আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে সংস্থাগুলো রয়েছে, সব মিলিয়ে আরও আট লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে আছে, মাঠে থাকবে ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা জানতে চেয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘তারা এমন কিছু জানতে চাননি। আমরা তাদের বলেছি সহিংসতা আছে খুব কম।’

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, কূটনীতিকরা বিভিন্ন সময় নির্বাচন কমিশনে এসেছেন এবং বিভিন্ন প্রশ্ন করেছেন। তারা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত রয়েছেন এবং সে কারণেই আজকে এখানে বেশি প্রশ্ন হয়নি।

ব্রিফিংয়ে রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, জাপান, চীনসহ প্রায় সব দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতিকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘এটি হয়তো তাদের কোনো ইয়ে আছে। তাদের প্রতিনিধি এসেছিলেন।’

নির্বাচনের সময় কোনো দেশে দায়িত্ব পালন করাটা একটি সৌভাগ্যের বিষয় হিসেবে অভিহিত করেন পররাষ্ট্র সচিব।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার সমাপনী বক্তব্যে বললাম, এ রকম একটি সুযোগ সব দেশের রাষ্ট্রদূতদের হয় না। পাঁচ বছর পর একটি নির্বাচন হয়। সুতরাং, না হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি নিজেও রাষ্ট্রদূত ছিলাম এবং আমারও যে এই সৌভাগ্য হয়েছে, তা নয়। সুতরাং, তারা যেন তাদের সৌভাগ্যকে ভালোভাবে ব্যবহার করেন এবং সুন্দরভাবে তারা যেন তাদের দেশে রিপোর্ট পাঠান। সে ক্ষেত্রে এই ব্রিফিংটা নিশ্চয়ই কাজে লাগবে।’

বিদেশি কূটনীতিকরা আশ্বস্ত হয়েছেন কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এটি তো চেহারা দেখে বলা মুশকিল। তবে যথাসাধ্য নির্বাচন কমিশন তাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন, ওনাদের দিক থেকে আন্তরিকতা এবং প্রস্তুতির ঘাটতি নেই। এখন ৭ তারিখে জনগণ যদি ভোট দেয় বা ভোট দিতে আসে, তখনই তাদের চেষ্টাটা সফল হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষে এখনো পর্যন্ত ৬০ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষক এসে পৌঁছেছেন এবং ১২৭ জনের আসার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ৭৩ জন বিদেশি সাংবাদিক অ্যাক্রিডিটেশন পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন এসে পৌঁছেছেন। আজ বিকেলে অথবা কালকে বেশিরভাগ চলে আসবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত