প্রচার-প্রচারণা শেষে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ফেনী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রিন্টু আনোয়ার। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর খবর নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, মানুষ বিশ্বাস করছে, তাদের ভোটের কোনো মূল্য নেই। ভোটাররা নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্তা হারিয়ে ভোট দিতে যাওয়ার জন্য রাজি নয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণ এখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে। নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতিও তাদের কোনো বিশ্বাস নেই। গণতন্ত্র সচেতন এই এলাকার মানুষ মনে করে, গণতন্ত্রকে যে জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাতে এখন আর তারা আস্থা রাখতে পারছে না। "আমার ভোটের কোনো মূল্য নেই"- এমন ভাবনা মনের মধ্যে আসন করে নিয়েছে। এটি গণতন্ত্রের জন্যে অশনি সংকেত। আমি গণসংযোগে মানুষকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি, কিন্তু মানুষ ভোট দিতে যাওয়ার জন্য রাজি নয়। তারা বলছে, ভোট দিয়ে কি হবে? এমপিতো নির্ধারণ হয়ে আছে। মোট কথা এখানে বার বার "নির্বাচন ফেনী স্টাইল" মঞ্চায়ন হওয়ার কারণে ভোটের প্রতি মানুষ পুরোপুরি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। ফলে যে জনপ্রতিনিধি জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হয় না, সেই জনপ্রতিনিধি আমি হতে চাই না।
রিন্টু আনোয়ার আরো বলেন, আমার মার্কা বাঁশির হুইসেলে ফেনী-৩ (দাগনভূইয়া-সোনাগাজি) এলাকায় আমি সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে এলাকার বিবেকবান সচেতন মানুষদের সজাগ করার চেষ্টা করেছি। এ চেষ্টায় ব্যাপক সাড়াও মিলেছে। এতে মহলবিশেষের গাত্রদাহ দেখা দিয়েছে। তাছাড়া এখানে নির্বাচন মানে শুধু ফলাফল ঘোষণার পালা। এমন নির্বাচনে থাকা মানে তথাকথিত "ডামি" নির্বাচনকে সহায়তা ও সমর্থন করা, যা আমি করতে চাই না।
তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের মনোভাবের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থে এই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম। আমি এই তথাকথিত "ডামি" নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি না।
রিন্টু আনোয়ার জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা ছিলেন।
