অবৈধ শপথ প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের মানুষ: জয়নুল আবদিন ফারুক

  • নির্বাচনে গঠিত জাতীয় সংসদকে ‘অবৈধ’ বলেছেন ‌বিএনপির নেতা জয়নাল আবদিন ফারুক
  • এই নির্বাচন সাধারণ মান‌ষ বর্জন করেছে ব‌লে মন্তব্য ক‌রে‌ছেন তিনি
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:১৭ পিএম

৭ জানুয়ারির ‘ভোটারবিহীন’ নির্বাচনে গঠিত জাতীয় সংসদকে ‘অবৈধ’ বলেছেন ‌সা‌বেক বি‌রোধী দলীয় চিফ হুইপ ও বিএনপির নেতা জয়নাল আবদিন ফারুক। এছাড়া এই নির্বাচন সাধারণ মান‌ষ বর্জন করেছে ব‌লে মন্তব্য ক‌রে‌ছেন তিনি।

বুধবার সকালে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহনের পর বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি যে, এই নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণ করেনি। এই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, গ্রহনযোগ্য হয়নি। শুধু তাই নয়, জনগণের অংশগ্রহণবিহীন এই নির্বাচন বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশগুলোও গ্রহণ করে নাই। আমরা মনে করি, এটা অবৈধ সরকারের অবৈধ সংসদ।‘

বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে ৭ জানুয়ারির ভোট বর্জনের জন্য জনগণকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে এসে বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুকের কাছ থেকে এই প্রতিক্রিয়া আসে।

সাবেক বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ বলেন, ‘৭ জানুয়ারি ভোটে জনগণ অংশগ্রহণ করে নাই। অতএব এই সংসদ সদস্যদের শপথও জনগণ গ্রহন করবে না।‘ এ সময় জাতীয় মৎস্যজীবী দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রিকসাচালকসহ পথচারিদের হাতে ফুল তুলে দেন বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক।

এ সময়ে মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাবসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি বলেন, ‘অবৈধ নির্বাচন জনগণ বর্জন করেছে। আমরা জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের হাতে গোলাপ ফুল তুলে দিচ্ছি এই ভোটে তারা অংশ গ্রহন না করার জন্য।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে লজ্জাজনক ঘটনা ৭ জানুয়ারি ঘটিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। জনগণের অনুপস্থিতিতে ভোটারবিহীন নির্বাচনে তল্পিবাহক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা তথ্য-উপাত্ত, বাংলাদেশের সকল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে যেটা দেখেছি সেটা হলো ২ থেকে ৪ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে নাই। সেই ভোটের সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান আজকে হয়েছে, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি।‘

সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ফারুক বলেন, ‘এই অবৈধ সংসদে যে সরকার গঠিত হবে সেই সরকারকে কখনো জনগণ গ্রহন করবে না। আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, আপনারা একটা ভুয়া ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছেন। এরশাদও ’৮৬’ সালে এবং ’৮৮ সালে নির্বাচন করেছিল। সেই নির্বাচনেও জনগণ অংশগ্রহণ করে নাই।

তিনি বলেন, ‘আপনারা ক্ষমতায় ছিলেন জোর করে, এবার ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি তল্পিবাহক নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে যে নির্বাচন আপনারা করেছেন ভোটারবিহীন, সেই সরকার আপনারা পরিচালনা করতে পারবেন না।‘

তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত। বাংলাদেশের মানুষ জেগেছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রাজপথে আছে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। রাস্তায় ইনশাল্লাহ আমরা আছি থাকব। গণতন্ত্রের বিজয় অবশ্যই আমরা আনব।‘

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত