চার দিন ধরেই কুয়াশায় ঢাকা উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। দেখা নেই সূর্যের। হিমেল হাওয়ায় ও বরফশীতল কুয়াশা। এমন বৈরী পরিবেশে বিপর্যস্ত উত্তরের সীমান্ত জেলা। কাঁপছে শিশু থেকে বৃদ্ধ। ঠাণ্ডার কারণে চরম বিপাকে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। একদিকে পৌষের হাড়কাঁপানো শীত, আরেকদিকে ক্ষুধা। তীব্র শীতে দুই যন্ত্রণায় আয়-রোজগারের অভাবে নীরবে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে তাপমাত্রার রেকর্ডের তথ্যটি জানান জেলার তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চতুর্থ দিনের মতো ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় বৈরী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সকালে ঘন কুয়াশায় মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশ। এতে হিমশীতলের ঠাণ্ডায় বিপাকে নিম্ন আয়ের পেশাজীবীরা। পাথর-চা শ্রমিক, দিনমজুর, থেকে নানা শ্রমজীবী মানুষ। পেটের তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই কেউ নদীতে পাথর তুলতে, কেউ পাথর ভাঙ্গা কাজে আবার কেউ চা বাগানে কাজে বেরিয়েছেন। বিপাকে চাষিরাও। তারাও ঠাণ্ডায় ক্ষেতে কাজ করতে পারছেন না।
বিভিন্ন জায়গায় কাগজের কার্টন, টায়ার ও কাগজে আগুন ধরিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, আজকে নিয়ে গত চার দিন ধরে সকাল থেকে দেখা মিলছে না সূর্যের। এতে বিপাকে পড়েছে গৃহপালিত প্রাণীরাও। ভোর-সকালে কাজ করা যাচ্ছে না, হাত-পা অবশ হয়ে আসে। ছেলে-মেয়েরাও ঠিকমতো পড়ালেখা করতে পারছে না।
এদিকে শীতে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর আউটডোরে ঠাণ্ডাজনিত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি শীতজনিত রোগ থেকে নিরাময় থাকতে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করছেন চিকিৎসকরা।