দেশের বাজার ব্যবস্থাপনা গত কয়েক বছরে সবচেয়ে দুর্বল এবং আস্থাহীন অবস্থায় পৌঁছেছে। গত দেড় বছর ধরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে নয় শতাংশের ওপর। শুধুমাত্র বাজার সিন্ডিকেটের কারণে সরকার এখনও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। গত পাঁচ বছরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণমন্ত্রী থাকার পরও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এখন প্রতিমন্ত্রী দিয়ে এ মন্ত্রণালয় কতটুকু সামলানো যাবে সেটিই এ সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
এবার সরকারের হয়ে সেই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে নব নিযুক্ত বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুকে।
গত আগস্টে বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে সাতটি চ্যালেঞ্জ ও সমস্যা চিহ্নিত করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এগুলো হচ্ছে- স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ, বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা, আমদানি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, নিত্য পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা, দ্রব্য মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং বিশ্বায়নের ফলে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়ানো।
ঘুরেফিরে নতুন প্রতিমন্ত্রীকেই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। চলমান ডলার সংকটের মুহূর্তে রপ্তানি খাতের বিস্তার বাড়ানো ছাড়া উপায় দেখছেন না দেশের অর্থনীতিবিদরা। রিজার্ভ বাড়ানোর দুটি উৎসের মধ্যে একটি রপ্তানি খাত।
শীতের মৌসুম শাক-সবিজর মৌসুম। অথচ বাজার অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের সবজির মৌসুমেও দাম আকাশচুম্বী। নিত্য পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখাই এ মুহূর্তে নতুন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। দ্রব্য মূল্য স্থিতিশীল না রাখলে দেশের মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। যদিও সরকারের এ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য রয়েছে। এখন মূল্যস্ফীতি সাড়ে নয় শতাংশের বেশি।