বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আপামর সবার শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব কাজী আনিসুর রহমান। স্বাধীন বাংলাদেশে গঠিত হওয়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রথম সচিব ছিলেন তিনি। শ্রদ্ধায়—ভালোবাসায় তাকে ‘এক টাকার সচিব’ নামে ডেকে থাকেন ক্রীড়াঙ্গন সংশ্লিষ্টরা। আজীবন খেলাধুলাকে ভালোবেসে কাটিয়ে দেওয়া মানুষটি পাড়ি দিয়েছেন না—ফেরার দেশে। ৯২ বছর বয়সে আজ দুপুরে রাজধানীর এক হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। হকি ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য ও আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকর্তা ইউসুফ আলী হাসপাতাল থেকে বলেন, ‘আমাদের সবার প্রিয় আনিস ভাই আর নেই।’
১৯৩২ সালে জন্ম নেওয়া কাজী আনিসুর রহমান দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সব সময় স্মরিত হবেন দুটো কারণে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শৃঙ্খলা নিয়ে আসা এবং এর আগে পাকিস্তান আমলে দুই অংশের মধ্যকার বিভেদের বিরুদ্ধে স্বকণ্ঠ অবস্থানের জন্য। স্বাধীনতার আগে ইস্ট পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশনে যুক্ত ছিলেন তিনি। দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমন্ত্রণে ক্রীড়া পরিষদের সচিবের দায়িত্ব নেন। সে সময় সম্মানী হিসেবে মাত্র এক টাকা নিতেন কাজী আনিসুর। ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ৩১ মার্চ তখনকার বাংলাদেশ ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ সংস্থার আহ্বায়ক এবং ১৯৭৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৭৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রীড়া পরিষদের (পরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ) সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
এনএসসির পর আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবে সক্রিয় হন, ছিলেন ক্লাবটির সভাপতি। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন ফেডারেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল তার। একাদশ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ কাবাডি দলের ম্যানেজার ছিলেন। ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন ২০০৭ সালে। বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির অগ্রজ সম্মাননাও পেয়েছেন এই গুণী ব্যক্তিত্ব। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও রয়েছে তার। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ১৯৯৭ সালে ‘স্পোর্টস ফর অল’ সম্মাননা দেয় তাকে। যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবসহ দেশের অনেক ক্রীড়া সংগঠন কাজী আনিসুর রহমানের প্রয়াণে শোক জানিয়েছে।
